India & World UpdatesHappeningsBreaking News

১১৪ দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে বিজয়, মোদি-রাহুলের পরেই তৃতীয়

ওয়েটুবরাক, ১ সেপ্টেম্বর: ভারতের প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজন মনে করেন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। ইন্ডিয়া টুডের সর্বশেষ ‘মুড অব দ্য নেশন’ সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

মাত্র ১১৪ দিন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা একজন নেতার জন্য এই ফলাফল নিঃসন্দেহে বেশ উচ্ছ্বাসের কারণ। তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম-এর প্রতিষ্ঠাতা বিজয় ৯.২ শতাংশ উত্তরদাতার সমর্থন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী পদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ৪৮.৭ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এবং ২৭.১ শতাংশ রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করেছেন।

তবে বিজয়ের অনুরাগীরা এতে হয়তো অবাক হবেন না। কারণ, ২ ফেব্রুয়ারি টিভিকে আত্মপ্রকাশের মাত্র ৯৮ দিনের মধ্যেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

তাঁর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি. সারথকুমার অবশ্য আগেই বলেছিলেন, “সকাল-সন্ধ্যা না তাকিয়ে কাজ করে যান, আপনি নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।” পূর্তমন্ত্রী আধব অর্জুনও বলেছেন, এবার দক্ষিণ ভারতের কোনও রাজ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় এসেছে, আর সেই রাজ্য হিসেবে তামিলনাড়ুই আদর্শ।

তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতারা অবশ্য বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী করার এই জোরালো প্রচারে মোটেই খুশি নন। এর অবশ্য ভিন্ন কারণ।  বিজয় কংগ্রেসশাসিত কেরলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেরলের অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক হয়ে ওঠা এস. দেবন ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন, এখন টিভিকে-তে যোগ দিতে চলেছেন।

কিন্তু বিজয়ের রাজনীতি, আদর্শ ও প্রশাসনের কোন বৈশিষ্ট্য তাঁকে সমীক্ষায় প্রতি ১১ জনে একজনের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করে তুলল, এর কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই।

বিজয়ের রাজনৈতিক আদর্শ এখনও অস্পষ্ট। বিজেপিকে তাঁর ‘আদর্শগত শত্রু’ ঘোষণা করলেও, তাঁর নিজস্ব আদর্শ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল করে কৃষকদের জমি ও জীবিকা রক্ষার কথা বলা থেকে শুরু করে কৃষি বাজেটের খসড়া নিয়ে একজন মন্ত্রীকে তিরুমালা ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পাঠানো বড় বিভ্রান্তিকর।

এমনকি ডিলিমিটেশন নিয়েও তিনি কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেননি; বরং প্রতিটি পর্যায়ে অবস্থান বদলেছেন। তাঁর প্রশাসনও অনেকটাই নিজস্ব চিন্তাধারাহীন বা অনুকরণনির্ভর। সব মিলিয়ে তাঁর রাজনীতি, আদর্শ এবং প্রশাসনের মধ্যে কোনও সুসংহত কাঠামো বা স্পষ্টতা নেই।

দায়িত্ব নেওয়ার ১১৪ দিন পরেও মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বাস্তব রাজনীতির একজন স্পষ্ট ও পরিচিত নেতা হয়ে ওঠার পরিবর্তে পর্দার নায়কসুলভ এক রহস্যময় ‘ত্রাণকর্তা’র ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন। তাঁর নীরবতা এবং সাধারণ মানুষের থেকে এক ধরনের দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভবত এই পরিকল্পিত ভাবমূর্তিরই অংশ। ভারতের প্রতি ১১ জনে একজন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার একমাত্র কারণ সম্ভবত এই রহস্যময়, আকর্ষণীয় ভাবমূর্তিই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker