NE UpdatesAnalyticsBreaking News

ধুবড়িতে ৪৮,০০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিপূজন মুখ্যমন্ত্রীর

গুয়াহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর : অসমের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ধুবড়ি জেলার চাপরে প্রস্তাবিত ৩,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের ভূমিপূজন করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধাপে ধাপে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৮০০ মেগাওয়াট যুক্ত করে ২০৩১ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ৩,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটিতে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। অসমে এই বিনিয়োগ করার জন্য তিনি আদানি গোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প শুধু রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাই বাড়াবে না, বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, নির্মাণপর্বে প্রায় ২৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর নিয়মিত পরিচালনার জন্য প্রায় ৫,০০০ কর্মীর প্রয়োজন হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত উৎপাদন ক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অসমকে আর কোনও বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা ভাবতে হবে না। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যাপ্ত না হলে অন্য রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে রাজ্যকে। তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সন্ধ্যার সময়ও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে এর ব্যবহার করা হবে।

অসমে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই প্রশ্ন তুলতেন, তাঁদের প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না। চাপরের এই প্রকল্প চালু হলে বিনিয়োগকারীদের নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অসম আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

হিমন্ত এক লক্ষ বিঘা জমির একটি ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির কথাও উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের জন্য জমি পাওয়া যাবে কি না এ নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা মোকাবিলায় এই ল্যান্ড ব্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, বিনিয়োগকারীরা যাতে প্রকল্প স্থাপনের জন্য জমি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন, সেজন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান প্রস্তুত করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, চাপরের প্রকল্পটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অসমের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

বৃহৎ আকারের এই বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেও কৃতিত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিনিয়োগের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজ্যের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker