HappeningsBreaking News

নাগরিকত্ব/৩ঃ ভারতের এই সমস্যা স্বাধীনতার আগে থেকেই
Citizenship/3: This problem was persistence prior to independence

(যৌথ সংসদীয় কমিটির অনুমোদন লাভের পর নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬ গত ৭ জানুয়ারি লোকসভায় পেশ হয়। ধ্বনিভোটে পাশও হয়ে গিয়েছে এটি। এ বার রাজ্যসভায় ওঠার পালা। কবে একে রাজ্যসভায় আনা হবে, আদৌ এ বার আনা হবে কিনা, সে সব প্রশ্নের মধ্যেও অনেকে জানতে চান, যৌথ সংসদীয় কমিটি যে ৪৪০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে কী কী লেখা রয়েছে। ওয়েটুবরাক পুরো রিপোর্ট ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে চলেছে। আজ এর তৃতীয় কিস্তি।)

১২ ফেব্রুয়ারিঃ ১. কোনও দেশে বসবাসের জন্য নাগরিকত্ব হল আইনি অধিকার। অন্যভাবে বললে, নাগরিকত্ব হলো কোনও জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যক্তিবিশেষের সদস্যপত্র।অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘নাগরিকদের নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। আবার রাষ্ট্রই স্থির করে, কারা তার নাগরিক হবেন। আর এটাই হচ্ছে নাগরিকত্বের মূল কথা। নাগরিকত্বের প্রকৃতি প্রায়ই রাষ্ট্রের মতো বিতর্ক বা প্রশ্নে জড়িয়ে পড়ে। কারণ এককথায় নাগরিকত্বের কোনও সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা আজও তৈরি হয়নি। গণতন্ত্রে যারা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পান, স্বৈরশাসনে প্রায়ই দেখা যায়, তারা কিছুই নন।’

রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রের ব্যাপার। এখন অবশ্য ভোটের অধিকার ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল প্রায় সব দেশেরই রীতি। যারা নাগরিক নন, তারা এমনকী অনেকদিন ধরে বসবাস করলেও বা দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় কাজকর্ম করলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের অধিকার থাকে না। সমাজে অনুপ্রবেশকারীদের সংহতিও রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের জায়গায় তাতপর্য বহন করে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের যে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, এর ওপরও তা দীর্ঘকালীন প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া জনসংখ্যাগত সমস্যার সমাধান নির্ভর করে কোনও দেশ কীভাবে তার দেশের নাগরিকত্বকে দেখছে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কৌশলকে কীভাবে কার্যকর করে। সংক্ষেপে বলল, রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব খুবই জরুরি। রাজনীতি হোক বা নির্বাচন, রাষ্ট্রের কল্যাণকর প্রকল্প হোক বা সার্বিক সংহতি—আধুনিক জীবনে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

২. উদার গণতন্ত্র নির্ভর করে মৌলিক মানবাধিকারের বিশ্ব-পরিভাষার ওপর। সেইসঙ্গে নাগরিকের সংগঠিত হওয়ার ও বিভিন্ন ব্যাপারে অংশগ্রহণের মুক্ত অধিকারের ওপর। এর পরও কিন্তু তারা নিজস্ব অঞ্চলের সীমা স্থির করে বা রাজনৈতিক সদস্যপত্রের কথা বলে। আসলে উদার গণতন্ত্র হচ্ছে, ভেতরের সব ভেতরেই রাখা, আর যা বের করা যায়, সব বের করে দেওয়া। ভারতে নাগরিকদের অধিকারের কথা আসলে স্বাধীনতার পরই শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনে প্রকৃত অর্থে এখানে এমন কোনও অধিকারই ছিল না।

তারা সাধারণত ১৯১৪ সালের ব্রিটিশ সিটিজেনশিপ অ্যান্ড এলিয়েন রাইটস অ্যাক্ট মেনে চলত। এই আইনে অবশ্য পরে কিছুটা কাঁটাছেঁড়া হয়। ১৯৪৮ সালে তা বাতিল হয়। সত্যি বললে, তখন ভারতের কোনও নাগরিকত্ব আইন ছিল না। শুধু ১৯২৮ সালে আবেদনের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের একটা আইন ছিল। তাতে মূলত বিদেশ থেকে আগতদের নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হতো। একে বাদ দিলে, রেজিস্ট্রেশন, ন্যাচারাইলেজেশন বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনও আইন ভারতে গৃহীত হয়নি। সে জন্যই সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরও, এমনকী ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে তা আইনে রূপান্তরিত হওয়ার পর ভারতকে এ নিয়ে ধন্দে পড়তে হয়। কারণ নাগরিকত্ব গ্রহণ বা বাতিল বা এ সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনও আইন তখন ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker