Barak UpdatesHappeningsBreaking News
নানা আন্দোলনের নেতা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অমলেন্দু দাসের জীবনাবসান

ওয়েটুবরাক, ২২ মে : বহু আন্দোলনের নেতা, অবসরপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষক অমলেন্দু দাস আর নেই ।গত ২ মে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৮৪ বৎসর। রেখে গেছেন হায়দরাবাদে কর্মরত উচ্চপদস্থ এক পুত্র, আমেরিকার সিয়াটলে কর্মরত এক কন্যা, দুই নাতনি ও কলকাতায় শয্যাশায়ী স্মৃতিভ্রষ্ট স্ত্রী ভারতী দাসকে। দোহারের রাজীব দাস তাঁর ভাগ্নে।
গুরুচরণ কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে সোনাই নিত্যগোপাল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। অবসরের কিছু আগে তাঁর হার্ট বাইপাস সার্জারি হয়। সেজন্য নিত্যগোপাল স্কুল ছেড়ে মালুগ্রামের বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি নেন।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী সংস্থায় দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও খাদ্য আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। গণিত শিক্ষক হিসেবে অমলেন্দু দাসের যথেষ্ট সুনাম ছিল। ছাত্র ও শিক্ষক মহলে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।
শ্রীহট্টের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ধীরাইতে জন্মগ্রহণ করে সেখান থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। তারপর তিনি ১৯৬২ সালে মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করে শিলচর গুরুচরণ কলেজে ভর্তি হয়ে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সারা কর্মজীবন শিক্ষকতা ও বামপন্থী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটে।
২০০১ সালে অবসর গ্রহণের কিছুকাল পরে শিলচর কলেজ রোডের বাড়ি বিক্রয় করে প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ছেলের সাথে বসবাস করেন। পরে কলকাতার নাগেরবাজারে একটি ফ্লাট কিনে সস্ত্রীক বসবাস শুরু করেন। খুবই অসুস্থ হয়ে বার বার তাঁকে হাসপাতালে শয্যা নিতে হয়।
তাঁর প্রয়াণে পরিচিত মহলে গভীর শোকের ছায়া পড়েছে। সহপাঠী, বহু আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ কালের নেতা অমলেন্দু দাসের মৃত্যু বড়ই বেদনাদায়ক বলে জানিয়েছেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার দে।



