Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কাটিগড়ার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ভারতীয় কৃষককে তুলে নিয়ে গেল বাংলাদেশি দুর্বৃত্তরা
ওয়েটুবরাক, ১৬ জুন : কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত কিন্নরখাল গ্রামে মঙ্গলবার এক বৃদ্ধ কৃষককে বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, রঞ্জিত দাস নামে ওই কৃষক সীমান্ত বেড়ার বাইরে অবস্থিত ভারতীয় কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বাংলাদেশ দিকের কিছু লোক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৭টার সময় সীমান্ত গেট খোলার পর স্থানীয় কৃষকরা বেড়ার ভেতরে থাকা নিজেদের কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। প্রায় ১৬ থেকে ১৭ জন কৃষক সেদিন মাঠে গিয়েছিলেন।
রঞ্জিত দাসের ছেলে সুজিত দাস জানান, সকাল প্রায় ১১টার দিকে গ্রামের লোকজন তাঁকে খবর দেন যে, তার বাবাকে বাংলাদেশ অভিমুখে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বিএসএফ পোস্ট কমান্ডারকে বিষয়টি জানানো হয়। বিএসএফ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় প্রবেশ করে। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমদিকে বিজিবির তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে বিএসএফ প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে নদীপথে তল্লাশির জন্য স্পিডবোট ব্যবহার করে। পুনরায় বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের দিক থেকে দুই-তিনজন ঘটনাস্থলে আসেন। তবে রঞ্জিত দাস বর্তমানে কার হেফাজতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুজিত দাস দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁর বাবাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানান।
ঘটনাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন ভারতীয় নাগরিককে এভাবে সীমান্ত পেরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
রঞ্জিত দাসের ছোট ভাই কালিমোহন দাস নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করে বলেন, “আমরা সবাই কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলাম। দাদার লাঙলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁর কিছুটা দেরি হচ্ছিল। হঠাৎ কয়েকজন এসে দাদাকে ধরে ফেলে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জোর করে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রঞ্জিত দাসকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। কালিমোহনের ভাষায়, “ওরা বলছিল কেটে টুকরো টুকরো করে দেবে। তারপর জোর করে টেনে নিয়ে যায়। আমরা পাঁচ-ছয়জন ছিলাম, কিছুই করতে পারিনি।”
ঘটনার জেরে সীমান্ত গ্রামে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রঞ্জিত দাস প্রতিদিনের মতো কৃষিকাজ করতে সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।
তিনি নিজে সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমি ইতিমধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মুখ্যসচিব এবং বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে রঞ্জিত দাসের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমি তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।”
কাছাড় জেলার পুলিশ সুপার সঞ্জীব শইকিয়া সহ জেলার একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।



