Barak UpdatesHappeningsCulture

সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে পা শিশুতীর্থ হাইস্কুলের

ওয়ে টু বরাক, ১৭ এপ্রিল : শিলচর শিশুতীর্থ হাইস্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের সূচনা হলো। বুধবার শিশুতীর্থ স্কুলের ৫০তম প্রতিষ্ঠা দিবসে সকাল ৯টায় স্কুলের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের সূচনা করেন শিশুতীর্থ হাইস্কুলের প্রশাসনিক আধিকারিক শিবানী ধর। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট অতিথি গুরুচরণ কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতীম নাগ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি শিবব্রত দত্ত, শিশুতীর্থ হাইস্কুলের ডিরেক্টর সমরবিজয় চক্রবর্তী, স্কুল পরিচালনা সমিতির সভাপতি বাবুল হোড়, স্কুলের প্রাক্তনী সৌমিত্র শংকর চৌধুরী সহ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা।

বরাকের প্রথিতযশা সুরকার এবং গীতিকার সুরসাধক শ্যামাপদ ভট্টাচার্যের লেখা বিদ্যালয় সংগীত পরিবেশন করে ছাত্রছাত্রীরা। তারপর স্কুলের দোতলার কক্ষে শিশুতীর্থ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মৃণালিনী ভট্টাচার্যের প্রতিকৃতির উন্মোচন করেন বাবুল হোড়। বেদমন্ত্র পাঠ করেন স্কুল শিক্ষিকা প্রতিতী শীল। সংগীত পরিবেশন করে স্কুলের প্রাক্তনী সহ বর্তমান পড়ুয়ারা।

স্বাগত বক্তব্যে স্কুলের দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন ডিরেক্টর তথা সম্পাদক সমর বিজয় চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৭৫ সালে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু হওয়া শিশুতীর্থ স্কুলের ইতিহাস। পাশাপাশি স্কুলের শৈক্ষিক পরিবেশ সহ অন্যান্য দিক তুলে ধরেন তিনি। বলেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মৃণালিনী ভট্টাচার্যের অবদানে এই স্কুলের ভিত তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি প্রতিবছরই বিভিন্ন পরীক্ষায় স্কুলের পড়ুয়াদের কৃতিত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় শিশু তীর্থ হাইস্কুলের পড়ুয়াদের ভালো রেজাল্টের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. অপ্রতীম নাথ শিশুতীর্থ স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে পা দেওয়ার জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, একটি স্কুল শুধুমাত্র একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়ার নয়। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সূচনা করে একটি বিদ্যালয়। স্কুলের পড়ুয়াদের উৎসাহিত করেন তিনি।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিবব্রত দত্ত স্কুলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিবানী ধর তাঁর বক্তব্যে স্কুলের প্রশাসনিক দিক সহ অন্যান্য দিকের কথাও উল্লেখ করেন। স্কুল প্রাক্তন সৌমিত্র শংকর চৌধুরী বলেন, ১৯৭৫ সালে এই স্কুলের প্রথম দুজন ছাত্র ছিলেন প্রয়াত লোকশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য ও তিনি নিজে। পরবর্তীতে অন্যান্যরা ভর্তি হন। তিনি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিলচর শহরের যে সকল ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বাইরে রয়েছে, তারা যেন নিজের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর নিজের শহরে ফিরে এসে শহরকে সমৃদ্ধ করে।পাশাপাশি শিশু তীর্থ স্কুলের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।

ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা সমিতির সভাপতি বাবুল হোড়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে শিলচরের প্রথম বাংলা স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু হয় শিশুতীর্থের পরবর্তীতে ইংরেজি মাধ্যম হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হয়। এদিকে সমর বিজয় চক্রবর্তী জানান, সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গোটা বছর জুড়েই থাকবে নানা কর্মসূচি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker