India & World UpdatesHappeningsBreaking News
রাম মন্দিরের অর্থ তছরুপের অভিযোগ, দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

ওয়েটুবরাক, ১৮ জুন: রাম মন্দিরের অর্থ তছরুপের অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্দিরের দু’জন কর্মচারীকে অযোধ্যা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটের সদস্যরা। তারা লব কুশ মিশ্র নামে মন্দিরের এক কর্মচারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেন। ওই ব্যক্তি টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। আরও এক কর্মচারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েও নগদ টাকা এবং সোনা দানা পাওয়া গিয়েছে। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্টের সম্পাদক চম্পৎ রাই অবশ্য অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দানপাত্রে জমা হওয়া ভক্তদের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর অফিসও অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। বিরোধীরা এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকেও নিশানা করতে শুরু করেছে। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এই ইস্যুতে পথে নেমেছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে শুধু সিট গঠন করলে হবে না। থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে, অর্থাৎ ট্রাস্টের শীর্ষ পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।
এর পাশাপাশি বিজেপির অন্দরেও রাম মন্দিরের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। রাম মন্দিরের দানপত্রের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় সাবেক সাংসদ বিনয় কাটিয়ার। বিজেপির এই সত্তরোর্ধ্ব নেতা ছিলেন রাম মন্দির আন্দোলনের সামনের সারির নেতা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব সংগঠন বজরং দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা বিজেপির সাবেক সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রাম মন্দির আন্দোলনের জন্য বহুবার জেল জরিমানার সম্মুখীন হয়েছেন। এখনও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিবেচনাধীন।
প্রবীণ এই নেতা রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ওখানে সবাই চোর। প্রত্যেকের ভূমিকার উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত।
রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে বিজেপি এবং দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর অবদানের কথা উল্লেখ করে কাটিয়ার বলেছেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। রাম মন্দির আন্দোলনের জন্য হাজার হাজার মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং অনেকেই কারাবরণ করেন। এমনকী ১৯৯২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংকেও তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল।’
অভিযোগ নিয়ে দলকে গুরুতর অস্বস্তিতে ফেলেছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রীজ ভূষণ শরণ সিং। তিনি বলেছেন, “আমি যদি সত্যটা বলি তাহলে ভয়ঙ্কর রকমের সমস্যায় পড়ে যেতে পারি। কারণ অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। আমাদের এখনই প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস নেই। আশা করি সত্য প্রকাশের জন্য উপযুক্ত সময় আসবে।”
অভিযোগ নিয়ে সরকার ও মন্দির ট্রাস্টের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন একজন সাবেক অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তাঁর অভিযোগ, দানপাত্রের টাকা গণনার সময় ব্যাংক এবং ট্রাস্টের কিছু কর্মচারীর অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি ট্রাস্ট কর্তাদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাঁকেই অন্য বিভাগে বদলি করে দেয়া হয়েছিল।



