Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ফের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ, উত্তাল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়

ওয়েটুবরাক, ৫ মে : ফের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল শিলচরের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। এ বার অভিযোগ সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অজিতকুমার জেনার বিরুদ্ধে। একই বিভাগের তিন ছাত্রী পুলিশে এজাহার দিয়ে বলেন, জেনা পরীক্ষায় নম্বর না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কুপ্রস্তাব দেন। তাতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি হোয়াটসঅ্যাপে তাদের বিরুদ্ধে সহপাঠীদের কাছে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এজাহারে শিক্ষকের কিছু মন্তব্যের উল্লেখ করে তারা বলেন, এগুলি যৌন হেনস্থা তো বটেই, তাঁদের মানসিকভাবেও পীড়িত করে তুলছে।
তিন ছাত্রী একই অভিযোগ জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও। এ দিন সমাজকর্ম বিভাগের অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে নামে। নেতৃত্বে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও এবিভিপি ইউনিট। রেজিস্ট্রার প্রদোষকিরণ নাথ এবং পুলিশ কর্তারা তাদের সঙ্গে আন্দোলনস্থলে গিয়ে দেখা করলেও তারা জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এর পরই অবস্থান ধর্মঘট থেকে অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
রেজিস্ট্রার জানান, অভিযোগ পেয়েই তাঁরা ইন্টারন্যাল কমপ্লেন কমিটির (আইসিসি) কাছে পাঠিয়েছেন। আইসিসির রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষককে খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। তাঁর মোবাইলও সুইচড অফ।
জেনাও অবশ্য একটি অভিযোগনামা দাখিল করেছেন। তাতে লিখেছেন, তিনি তফশিলি জাতিগোষ্ঠীর বলেই একদল ছাত্র তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা করে চলেছে।
এর আগেও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে, মামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা বেড়ে চলায় অভিভাবকরা উদ্বেগে। রেজিস্ট্রার নাথের দাবি, এ ব্যাপারে তাঁরা সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলেন। অভিযোগ পেলেই আইসিসিকে তদন্তের জন্য বলা হয়। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, “কর্তৃপক্ষ নানা ব্যাপারে তাঁদেরই সচেতন করে তুলতে চান। আসলে সচেতনতা অভিযান প্রয়োজন শিক্ষকদের মধ্যে।”


