Barak UpdatesHappeningsBreaking News
হাততালি দিয়ে বিমানবন্দর প্রকল্পের বিরোধিতা করেন ৯৫ শতাংশ জনতা, দুই সংগঠনের দাবি

ওয়েটুবরাক, ২৩ জুন: আজ সোমবার প্রস্তাবিত ডলু এয়ারপোর্টের পরিবেশ সমীক্ষা রিপোর্টের উপর যে গণশুনানি হয়, সেখানে ৯৫ শতাংশ জনতা এর পক্ষে মতামত দিয়েছেন বলে জেলাশাসক জানালেও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি এবং অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে ৯৫ শতাংশ জনতা হাততালি দিয়েছেন ।
দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন, ডলু বাগানের অন্যান্য তিনটি ইউনিয়ন, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি , ডলু বাঁচাও কমিটি সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ২৪৮৬ শ্রমিকের লিখিত বক্তব্য প্রদূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব ও কাছাড়ের জেলাশাসকের কাছে আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। এ দিন গণশুনানিতে এই লিখিত বক্তব্যের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন মৃণাল কান্তি সোম, শঙ্কর ধোবি, অরিন্দম দেব ও কমলজিৎ তেলি।
তাঁরা বলেন, এই ইআইএ বা পরিবেশ রিপোর্ট বাতিল করতে হবে কারণ তা সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্লঙ্ঘন করেছে। তাঁরা দাবি তোলেন, অধিগৃহীত জমিতে চা-গাছ ফলানোর জন্য এনরেগার মাধ্যমে কাজহারা শ্রমিকদের কাজে লাগাতে হবে।
ইউনিয়নের পক্ষের বক্তারা বলেন, জমি অধিগ্রহণের আগেও দুটি গণশুনানিতে সব শ্রমিক এক বাক্যে ডলুতে এয়ারপোর্ট প্রকল্প খারিজ করেন এবং ২৩২৮ জন শ্রমিক লিখিতভাবে তা জানান। কিন্তু ইআইএ রিপোর্ট এব্যাপারে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। ৪২ লক্ষ চা-গাছ ও হাজারো ছায়া গাছ উপড়ে ফেলার মাধ্যমে পরিবেশের উপর প্রভাবের হিসাব, ডলু চা-বাগানের ব্যালান্স শিট ও রেভিনিউ কালেকশনের হিসাবে যে ডলু চা-বাগান ধ্বংস হওয়ার বার্তা মেলে সেটা বাদ দিয়ে, ইআইএ রিপোর্টে চালাকির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। বড়াইল ওয়াইল্ড লাইফ ও ডলু লেকের উল্লেখ থাকলেও তার উপর প্রকল্পের কী প্রভাব পড়বে তার কোন হিসাব নেই।
ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে ফারুক লস্কর ও বিশ্বজিৎ দাস এবং অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে মানস দাস প্রশ্ন তোলেন, এ কেমনতর গণশুনানি যা প্রজেক্ট এরিয়ার বাইরে করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হয় না। চা-বাগান আজ খোলা রাখা হয়েছে যাতে শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করতে না পারে। এধরনের চালাকির মানে কী? প্রজেক্ট সাইটের বাইরের কতকগুলো এনজিও প্রতিনিধিকে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর এই কৌশলকে তারা ধিক্কার জানায়।



