Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ড. তৃপ্তি দাসের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ উইমেন্স কলেজ

ওয়েটুবরাক, ২ এপ্রিল : ওমেন্স কলেজ, শিলচরের সংস্কৃত বিভাগের প্রাক্তন প্রধান এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ ড. তৃপ্তি দাস গত বুধবার পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রয়াতের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে কলেজ প্রাঙ্গণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় প্রিন্সিপাল ড. সুজিত তিওয়ারি তাঁর স্মৃতিচারণে ড. দাসকে এক অসাধারণ মানবিক গুণাবলির অধিকারী, স্নেহশীলা ও আন্তরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ড. তৃপ্তি দাস শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সবার প্রেরণার উৎস। তাঁর স্নেহময় আচরণ, মিষ্টি হাসি আর সকলকে আপন করে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে।” তিনি আরও স্মরণ করেন, কীভাবে ড. দাস সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন, ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং আশীর্বাদে ভরিয়ে দিতেন সকলকে।
উপাধ্যক্ষ ড. শান্তনু দাস, অধ্যাপকবৃন্দ ড. সর্বাণী বিশ্বাস, ড. সুস্পিতা দাস, ড. সংঘমিত্রা দেবনাথ এবং কলেজের গ্রন্থাগারিক ড. সরিতা ভট্টাচার্য তাঁদের গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং প্রিয় শিক্ষিকা ও পথপ্রদর্শকের প্রয়াণে অপূরণীয় ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। প্রশাসনিক কর্মী অজয় দাসও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ কর্মজীবনে ড. তৃপ্তি দাস নিষ্ঠা, সততা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন। সংস্কৃত বিভাগের প্রধান হিসেবে এবং পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ হিসেবে তাঁর অবদান কলেজের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক বিকাশে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
শোকসভায় উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁকে শুধু একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবেই নয়, বরং এক সহৃদয় ও মমতাময় মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়, যাঁর সান্নিধ্য বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
উইমেন্স কলেজ, শিলচর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে এই দুঃসময়ে তাঁদের শক্তি ও ধৈর্য কামনা করে।



