Barak UpdatesAnalyticsBreaking News
ডাক্তার ভগবানেরই দূত, বিমান সফরের অভিজ্ঞতা লিখেছেন শতাক্ষী ভট্টাচার্য


শতাক্ষী ভট্টাচার্য
শিলচর, ১৮ আগস্ট : সাধারণ মানুষের কাছে আজকের দিনেও একজন চিকিৎসকের সম্মান ও গুরুত্ব অনেকটা। আধুনিকতার বেড়াজালে মানুষ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকলেও আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে একজন ডাক্তার ভগবানেরই রূপ। তা আজ থেকে দীর্ঘকাল আগেও ছিল, এখনও একই আছে। আজকাল কিছু কিছু সুযোগসন্ধানী এই পেশাকে কালিমালিপ্ত করলেও সাধারণের মনের ভেতরে একজন ডাক্তারের যে স্থান, তা কিন্তু অবিচল। বরং বর্তমান সময়ে রোগশোকের ভয়ার্ত ছবির বিপরীতে ডাক্তারদের ওপর আমাদের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। সেই নির্ভরতার আরেকটি ছবি সে দিন আমার চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠল।
রবিবার দিল্লি থেকে ফেরার পথে কলকাতা-শিলচর ইন্ডিগো 6E-2513 বিমানে চেপেছিলাম। বিমানে বসার পর থেকেই দেখেছি, একজন প্রবীণ যাত্রীর শরীর খারাপ করেছিল। যদিও তিনি আগে থেকেই অসুস্থ বলে রোগীর সঙ্গে থাকা পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। মাঝ আকাশে থাকার সময়ও বুঝতে পেরেছি, ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকেরা আতঙ্কে কাটিয়েছেন। কিন্তু ফ্লাইট টেক অফের সময়ে বড় বিপত্তি দেখা দেয়। ওই অসুস্থ মানুষটির বুকে-পিঠে প্রচণ্ড চাপ অনুভুত হয়। তখন পরিবারের লোক সহ অন্য যাত্রীরাও ভয় পেয়ে যান ।
ওই সময় একজন যাত্রী একটু আওয়াজ করেই অনুরোধ করতে থাকেন, এই ফ্লাইটে কোনও চিকিৎসক কি আছেন? যদি থাকেন, দয়া করে একটু এসে এই বয়স্ক মানুষটিকে দেখুন। এই অবস্থা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই একজন সাড়া দেন। এগিয়ে এসে তাঁর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ও তাৎক্ষণিক উপচার করেন। ফলস্বরূপ এই রোগী ভালভাবেই এসে পৌঁছান শিলচর এয়ারপোর্টে।
আসলে শিলচরের ডাঃ তনুশ্রী দেব গুপ্ত এই বিমানেই কলকাতা থেকে শিলচরে সফর করছিলেন। আর তিনি যখন যাত্রীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন, সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসেন। চেক আপ করেন রোগীকে। প্রয়োজনীয় মেডিসিনও দেন তাৎক্ষণিকভাবে।
এমনকি শরীর ঘামছে দেখে ওএরএস খাওয়ানো হচ্ছিল রোগীকে। ডা: তনুশ্রী তখন বললেন, এখন ওএরএস নয়, এটা খারাপ করবে। একটু সময়ের মধ্যেই তাঁর দেখভালে রোগী শোচনীয় অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হতে থাকেন।
পরে জানতে পারি, ওই প্রবীণ যাত্রীর কদিন আগেই পেসমেকার লাগানো হয়েছিল। এই অবস্থায় সময়মতো ডাঃ তনুশ্রীর পরামর্শ না পেলে তাঁর এ দিনের শারীরিক পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হতে পারতো বলে আমার মনে হয়েছে। যাত্রীদেরও অনেকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এখন কথা হচ্ছে, ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ দেখবে ভেবে তনুশ্রী এড়িয়ে যেতে পারতেন, নিজের পরিচয় না দিলেও পারতেন, এগিয়ে গিয়ে চেকআপ না করলেও পারতেন। কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়েছেন।
এখানে আরেকবার প্রমাণিত হলো, একজন চিকিৎসক সত্যি সত্যিই ভগবানের দূত। দূত হয়ে এসেই তিনি ওই রোগীকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। একজন ডাক্তারের প্রতি আমার মনে যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে, এই ঘটনায় তা আরও বদ্ধমূল হলো। ধন্যবাদ চিকিৎসক সমাজকে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ডাঃ তনুশ্রী দেবগুপ্তকে। (ওয়ে টু বরাক প্রতিবেদন)



