Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News

ইতিহাসের সাক্ষী! শিলচর ডিএসএতে উদ্বোধন হল সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ওয়েটুবরাক, ৪ অক্টোবর: ইতিহাসের সাক্ষী থাকলেন শিলচরবাসী। শনিবার বিকেলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট প্যাভিলিয়নের উপরতলায় উদ্বোধন হল অনিন্দিতা-সমীরণ কলা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের। এটিই অসমের একমাত্র সাংস্কৃতিক অ্যাকাডেমি, যেটি কোনও জেলা ক্রীড়া সংস্থা দ্বারা পরিচালিত।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা চিত্রভানু ভৌমিকের হাতে উদ্বোধন হয় এই কলা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের। সঙ্গে ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী, সংস্থার সভাপতি শিবব্রত দত্ত, প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড়, সাধারণ সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রণব কল্যাণ দে এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তথা বিশিষ্ট অভিনেতা সুব্রত রায়। ছিলেন পুরো কর্মযজ্ঞের মধ্যমণি সমীরণ ভট্টাচার্য, যার অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠেছে এই সাংস্কৃতিক অ্যাকাডেমি। প্রাক্তন আয়কর আধিকারিক সমীরণ তাঁর প্রয়াত স্ত্রী অনিন্দিতা ভট্টাচার্যের স্মরণে এই অ্যাকাডেমির পরিকাঠামো গড়ে দিয়েছেন।

দর্শকাসনে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার দিলীপকুমার পাল, বীণাপাণি নাথ, মহাদেব বণিক, সুপ্রিয় ভট্টাচার্য, অমিত শিকদার, দীপক সেনগুপ্ত প্রমুখ। বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে সহ-সম্পাদক দেবাশিস সোমের উপস্থিতি। ডিএসএর টালমাটাল সময়ে তিনিই ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

আজ সাংস্কৃতিক অ্যাকাডেমির উদ্বোধনী পর্বে বারবার উঠে আসে ওই টালমাটাল অবস্থার কথা। বিশেষ অতিথি বিশ্বতোষ চৌধুরী শুধু এইটুকু বলেই থেমে যান যে, “ঠাকুরের পরেই মানুষের শক্তি। ঠাকুরই সে শক্তি দিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি কাঁকড়া হয়ে পেছনে টানাটানি করি, তবে ঠাকুর কী করবেন!” সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রণব কল্যাণ দেও তাঁর উদ্বেগের কথা শোনান। বলেন, ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ডিএসএতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে, শুধু ঠাকুরের কাছে সারাক্ষণ প্রার্থনা করেছি।

শিলচর বা বরাক উপত্যকা যে সৌজন্যে কার্পণ্য করে না, আজকের অনুষ্ঠান আরও একবার তা দেখিয়ে দিল। সর্বশেষ নির্বাচনে বাবুল হোড় ও শিবব্রত দত্তের মধ্যে সভাপতির আসন নিয়ে তীব্র লড়াই হলেও এ দিনের অনুষ্ঠানে শিবব্রত দত্ত স্পষ্ট বলেন, “বাবুল হোড় প্রতিটি কাজে সহযোগিতা, পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।” আবার বাবুল হোড় খোলামেলা স্বীকার করেন, “আমি ১৬ বছর সম্পাদক ছিলাম, ছিলাম সভাপতিও। কিন্তু এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করতে পারিনি।” তিনি জানান, বহু আগে থেকেই সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে জড়িত অনেকে এই ধরনের কেন্দ্র চাইছিলেন। একবার একটা কেন্দ্রীয় অনুদানও এসেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে একে তিনসুকিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সভাপতি শিবব্রত প্রয়াত সন্তোষমোহন দেবের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধকের সংক্ষিপ্ত ভাষণে চিত্রভানু ভৌমিক বললেন, “এই অঞ্চলের সকল সংস্কৃতি কর্মীর দায়িত্ব বেড়ে গেল। এই অ্যাকাডেমিকে আমাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।” ডিএসএর সাধারণ সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য জানান, শুধু সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই নয়, কিছুদিনের মধ্যে টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমিও শুরু হবে। ক্রিকেট প্যাভিলিয়নের উপরতলার ওই দালানবাড়িরই একাংশে টেবিল টেনিসের প্রশিক্ষণ হবে।

উদ্বোধনী পর্ব শেষ হতেই বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরীর সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল নাচ-গান-নাটক। আজকের প্রজন্ম থিয়েটার গ্রুপ মঞ্চস্থ করে ২০ মিনিটের একটি নাটক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker