India & World UpdatesHappeningsBreaking NewsFeature Story

অসমের বাঁশে বেঙ্গালুরুতে তৈরি হয়েছে রবিশঙ্করের ধ্যানমন্দির

//উত্তমকুমার সাহা ও পান্নালাল ভট্টাচার্য//

শিলচর, ৯ জুনঃ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কনকপুরা রোডে অবস্থিত আর্ট অব লিভিং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার বা শ্রীশ্রী রবিশঙ্করের প্রধান আশ্রম। সেখানেই গত ১০ মে ধ্যানমন্দিরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কী এই ধ্যানমন্দির? আর্কিটেক্ট সারিকা নিপুনাকে জানান, ভাবনাটি শ্রীশ্রী রবিশঙ্করের নিজের। বেঙ্গালুরুর এই আশ্রমের প্রথম বড় কাঠামো হলো বিশালাক্ষী মন্দির। সেটিও রবিশঙ্করের ভাবনায় নির্মিত। এতদিন পরেও এটি একইরকমের সুন্দর, যেমনটি ছিল প্রথম দিকে। এই মন্দির দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। নবরাত্রির দিনে তাঁদের সংখ্যা মাত্রা ছাড়ায়। লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন সেদিন। তা দেখে তিনবছর আগে রবিশঙ্কর বললেন, আমাদের একটি বড় হলঘর নির্মাণ করতে হবে, যাতে আঠারো থেকে বিশ হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে ধ্যান করতে পারেন। ওই হলের ভেতরে কোনও স্তম্ভ থাকবে না। শুধু ভেতরে নয়, এর ছাদেও যাতে মানুষ বসে ধ্যান করতে পারেন, তারও ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর নির্দেশ অনুসারেই নবনির্মিত মন্দিরের ২২৫ ফুট প্রস্ত একেবারে স্তম্ভশূন্য হয়। ছাদেও একই ধরনের ব্যবস্থা। এই চ্যালেঞ্জিং কাজটা সম্পন্ন হওয়ার ফলে দেশের মধ্যে এটি একটি ব্যতিক্রমী নির্মাণ হয়েছে বলেই দাবি করলেন সারিকা। তাঁর কথায়, ভারতে আর কোনও মেডিটেশন হলে এত দীর্ঘ স্তম্ভহীন নির্মাণকার্য নেই। দ্বিতীয়ত, ছাদে একসঙ্গে এত মানুষ বসার মতোও কোনও মেডিটেশন হল নেই এ দেশে। তাও আবার আরসিসি কাঠামোয়।

ছবি : বিশালাক্ষী মন্দির

ধ্যানমন্দির আরও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে বাঁশের ব্যবহারে। এক লক্ষ দশ হাজার বর্গমিটার এলাকায় বাঁশ লাগানো হয়েছে। তবে এত বাঁশ সংগ্রহ, মোটেও সহজ ব্যাপার ছিল না। এর ওপর পারমিশন আদায়ে নানা ঝামেলা। সারিকা জানান, শেষে স্থির হয়, শুধু বাঁশ নয়, ইঞ্জিনিয়ার উড ও বাঁশের সমন্বয়ে ধ্যানমন্দির সাজিয়ে তোলা হবে। কলামে ইঞ্জিনিয়ার উড, বাকি জায়গায় দুইয়ের কম্বিনেশন। পেছনে ব্যাকড্রপ হিসেবে লাগানো হয়েছে শীতল পাটি। ওইসব বাঁশ ও বাঁশজাত জিনিসের অধিকাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে অসম থেকে। বাকিটা পশ্চিমবঙ্গের। সামান্য কিছু আনা হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকেও।

সারিকা জানান, রবিশঙ্কর আরও চেয়েছিলেন, শুধু হলের ভেতরে বসে নয়, জায়গা না পেয়ে বাইরে যারা বসবেন, তাঁদেরও যাতে ভেতরের সঙ্গে সংযোগ গড়ে ওঠে। আকারে ছোট দেখালেও মঞ্চটি যাতে বাইরে বসা ব্যক্তিটির কাছেও দৃশ্যমান হয়। শেষপর্যন্ত এমনটিই হয়েছে। সেইসঙ্গে ভাবা হয়েছে ভেন্টিলেশনের কথা। এয়ার সার্কুলেশনের খুবই সুন্দর ডিজাইন। এয়ার কন্ডিশনড বটে, কিন্তু এর কত কম ব্যবহারে বেশি সাচ্ছন্দ্য ভোগ করা যায়, গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সে জায়গায়। ফলে সাধারণ সময়ে এসি চালানোর প্রয়োজনই পড়ছে না।

গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হয়ে গেলেও এখনও অবশ্য কাজ চলছে। উত্তর দিকে দরজায় এমনভাবে কাঁচ লাগানো হবে, যাতে প্রয়োজনে পুরো খুলে রাখা যায়, আর অন্য সময় বন্ধ। বিভিন্ন এনআইটির পরামর্শক্রমে ধ্যানমন্দিরের ডিজাইন তৈরি হয়। পরে আইআইটি রুরকি সমস্ত কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করে তাতে অনুমোদন জানায়। ভূমিকম্পের কথা মাথায় রেখেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্কিটেক্ট সারিকা নিপুনাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker