NE UpdatesHappeningsBreaking News
৬৪ জন ছাত্রী ও শিক্ষিকার ভুয়ো অশ্লীল ছবি তৈরির অভিযোগ, ৩ ছাত্র সাসপেন্ড

ওয়েটুবরাক, ১৩ জুন: অসমের দুই নামী বেসরকারি স্কুলের তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে অন্তত ৬৪ জন ছাত্রী ও শিক্ষিকার ছবি ব্যবহার করে ডিপফেক অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, স্কুল ও ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়ো অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করা হয় এবং পরে তা অনলাইনে বিক্রিও করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার ক্রাইম শাখা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছবিগুলির উৎস, আপলোডের প্ল্যাটফর্ম এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখছে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্তকারীরা বর্তমানে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন। কোন প্ল্যাটফর্মে এই কনটেন্ট আপলোড ও ছড়ানো হয়েছে, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।”
অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন ছাত্রকে ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি স্কুল জানিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিষয়টি সামনে আসার পরই নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং বিষয়টি ‘চাইল্ড অ্যাবিউজ মনিটরিং কমিটি’-র কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্কুলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, “প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ছাত্রদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ স্কুলের নিয়ম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অযাচিত তথ্য, ছবি বা কনটেন্ট ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও অসমে এক স্কুলের একাদশ শ্রেণির তিন ছাত্র এক নাবালিকা সহপাঠীর বিকৃত নগ্ন ছবি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে একটি কলেজের ২০ জন ছাত্রীও সাইবার অপরাধীদের ডিপফেকের শিকার হন। তাঁদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ক্রমাগত এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

