Barak UpdatesHappeningsBreaking NewsFeature Story

বরাকে বন্যার দরুন ইদের আনন্দে ভাটার টান

//উত্তম কুমার সাহা//

৬ জুন : বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ইদ-উল-আজহার আনন্দ নেই বরাক উপত্যকার ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মনে। তাদের অনেকেই বানভাসি, বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুলের শিবিরে। হাইলাকান্দি জেলার বক্রিহাওর অঞ্চলে জাতীয় সড়কের ওপর পলিথিনের তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন বহু মানুষ। যারা বন্যার কবলে পড়েননি, তাঁরাও মনে করছেন, এ আনন্দ উৎসবের সময় নয়। নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় সহ ধর্মীয় পরম্পরা মেনে যে-টুকু করা প্রয়োজন, ততটুকুই করবেন। ফলে ইদের আগের দিনেও উপত্যকার দোকানপাটে বেচাকেনা নেই বললেই চলে।
সপ্তাহভর ভোগান্তির পর বরাক উপত্যকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশই আজও এর প্রভাবমুক্ত নন। বিশেষভাবে ক্ষতির শিকার গ্রামের দরিদ্র মানুষ। তাদের কাছে এমনিতেই ইদ উপলক্ষে বিশেষ কিছু করার সুযোগ থাকে না। তবু কষ্ট করে হলেও একটি দিন সবাই মিলে ভালো খাওয়াদাওয়ার চেষ্টা করেন। এ বার তাঁদের সেই কষ্টটুকু করারও সুযোগ নেই। এর মধ্যে অনেকে অপেক্ষা করেন জাকাতের। বন্যার জন্য তাও অন্য বছরের মতো মেলেনি।

এর মধ্যেও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে ইদের দিন কাটানোর পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অধিকাংশ ইদের প্রাক-সন্ধ্যায় বন্যাদুর্গত মানুষের যন্ত্রণার কথাই বললেন।
ড. আবুল হাসান চৌধুরী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ইদ নিয়ে এখন আর তেমন ভাবি না। বয়স হয়েছে। ঐস্লামিক পড়াশোনাকেই ইদের আনন্দ বা শ্রদ্ধাপ্রকাশ হিসেবে দেখি। মেহেরপুর কো-অপারেটিভ এলাকায় বন্যা হয়নি বটে, তবু বন্যার্তদের কথা ভাবি।
আলি রেজা ওসমানি, আইনজীবীঃ এমনিতেই মায়ের অসুস্থতার জন্য ইদের আলাদা কোনও অনুভূতি ছিল না। এর মধ্যে বন্যার্তদের কথা ভেবে খুব কষ্ট পাই। তাই তাঁদের জন্য কিছু করার মধ্যেই ইদের বিশেষত্ব খোঁজার চেষ্টা করব। আজও এলাকার শিবিরবাসীদের সঙ্গে, তাদের সুযোগসুবিধার জন্য অনেকটা সময় কাটাই।
আবিদ রাজা মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষ: সকাল নামাজে যাব। ফিরে এসে অপেক্ষায় থাকব। অনেকে আসেন এ দিনে। তাঁদের আপ্যায়ন করব। নিজেও এক-দুই জায়গায় যাব। পয়লাপুল এলাকায় বন্যার তেমন প্রভাব পড়েনি বটে, তবু চাষীদের কথা ভেবে খারাপ লাগছে। সবজি ক্ষেতের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
আমিনুল হক, বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ: এই ইদ হচ্ছে জাকাত, নামাজ ও কোরবানির ইদ। সবাই যাতে ইদের আনন্দ নিতে পারেন, সে জন্য সাধ্যমত জাকাত বিতরণ করেছি। কাল প্রথমে নামাজে অংশ নেব, প্রার্থনা করব। পরে কোরবানি। এ বার আমার গ্রাম বেরেঙ্গার মানুষকে বন্যায় ভুগতে হয়নি । কিন্তু সোনাইর তিনটি জিপির মানুষ খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাদের চিনি, ময়দা, তেল দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এটাই আমার ইদের আনন্দ।
বদরউদ্দিন মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া প্রশিক্ষক ও সংগঠক: সোনাই শহরে না থাকলেও গ্রামের মানুষ বন্যাক্লিষ্ট। অনেকের বাড়িঘরে এখনও জল। কষ্ট হচ্ছে গরু-মোষগুলোরও। তাই ইদের বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই। আমি খেলাধূলার মানুষ। খেলা নিয়েই থাকব।
শুক্কুর আলি মজুমদার, সানাই শিল্পী: ইদের দিনে আমি নামাজ পড়ি, বাড়ির সবাইকে নিয়ে একটু ভালো খাওয়া-দাওয়া করি। এ বারও তাই হবে। ক-দিন আগেও বন্যার জন্য ইদের কী হবে ভাবছিলাম। যাই হোক, এখন পাম্পের ব্যবস্থা হওয়ায় জল দ্রুত নেমে গিয়েছে।
সাজ্জাদুল হক চৌধুরী, ডিআইপিআরও, হাইলাকান্দি: ইদের দিনটা সব সময় আমি মা-বাবার সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করি। এ বারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাগায় চলে যাব। সেখানকার বিখ্যাত মসজিদে নামাজ পড়ব। বিকালে শিলচরে ফিরে আসব। তবে মন পড়ে থাকবে, হাইলাকান্দির বন্যার্তদের জন্য। আজও দেখছিলাম, রাস্তার ওপরে কত মানুষ দিন কাটাচ্ছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker