Barak UpdatesHappeningsBreaking News
এই প্রথম সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চে বসবেন সুস্মিতা, লিখেছেন উত্তমকুমার সাহা

//উত্তমকুমার সাহা //
শিলচর, ১০ জুলাই: রাজ্যসভার উপনির্বাচনে সুস্মিতা দেবকেই প্রার্থী করল বিজেপি। ফলে তাঁর প্রথম বারের জন্য সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চে বসা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই সন্তোষতনয়া ঘোষণা করেছিলেন, “এবার অসমের রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি। শিলচর সহ বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য সময় দিতে চাই।”
সুস্মিতা দেব ছাত্রজীবন দিল্লিতে কাটালেও মূলত তিনি শিলচরের নাগরিক। এখানকার পুরসভায় চেয়ারপার্সন ছিলেন, শিলচরের বিধায়ক ছিলেন। প্রথমবার যখন সংসদে পা রাখেন, তা শিলচর লোকসভা আসন থেকেই। ফলে তিনি শিলচরে থাকবেন, বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য কাজ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সন্তোষমোহন দেবের কন্যা হলেও তাঁর বিজেপিতে যোগদানে তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। কারণ বাবা যে দলের জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে কাজ করে গিয়েছেন, সেই কংগ্রেস বহু আগেই তিনি ছেড়ে এসেছেন। মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে থেকেও ওই দল কবেই ত্যাগ করেছেন।
কিন্তু অস্বাভাবিক ব্যাপার হল, অসমে তাঁকে যোগদান করায়নি বিজেপি। উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তখনই কারও বোঝার বাকি থাকেনি যে, নিজের ছেড়ে আসা রাজ্যসভার আসনে দল তাঁকেই প্রার্থী করতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার এই উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিট পাওয়ার পর অবশ্য জয় নিয়ে সংশয়ের কোনও অবকাশ নেই। তিন আসনের ভোটে অন্তত একটি আসন জেতার জন্য যে ১৪৭টি ভোট পাওয়া প্রয়োজন, বিরোধী শিবিরের তা মোটেও নেই। ফলে সুস্মিতা দেবের টিকিট পাওয়া পাকা হতেই রাজ্যসভায় তাঁর যাওয়াও পাকা হয়ে গিয়েছে। তবে আগের তিনবারের মতো আর বিরোধী বেঞ্চে বসে দেশের নজর কেড়ে নেওয়া নয়, এবার তাঁকে বসতে হবে ট্রেজারি বেঞ্চে, যেখানে একজন সাধারণ সাংসদের বক্তৃতার তেমন অবকাশ নেই। গঠনমূলক কাজের মধ্য দিয়েই নিজের পায়ের তলার মাটি খুঁজে নিতে হবে চারবারের সাংসদকে।



