NE UpdatesHappeningsBreaking News

রাজ্যজুড়ে জুবিন স্মরণ, সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা

গুয়াহাটি, ১৯ সেপ্টেম্বর : কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গের প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হল। অসমের প্রাণের শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শনিবার রাজ্যের সর্বত্র তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। অসমের প্রতিটি প্রান্তে অনুরাগী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রিয় শিল্পীকে।

জুবিন গার্গের শেষশয্যার স্থান সোনাপুরের ‘জুবিন ক্ষেত্র’-এও সকাল থেকেই অনুরাগীদের ঢল নেমেছে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ সেখানে এসে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। গত এক বছরে জুবিন গার্গ যে অসমবাসীর আবেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর নানা কর্মসূচি ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।

জুবিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগীর পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাঁকে স্মরণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে জুবিনকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অসংখ্য মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে জুবিন গার্গ চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

নাগাল্যান্ডের বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী টেমজেন ইমনা আলংও জুবিনকে স্মরণ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জুবিনের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর এই পোস্টে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের মধ্যে থাকা সাংস্কৃতিক ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের কথাও উঠে এসেছে।

কৃষি, সেচ ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকাও প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করে বলেন, জুবিন গার্গ আমাদের সকলের মধ্যে তাঁর একটি অংশ রেখে গিয়েছেন।শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগু বলেন, অসমের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের অগণিত শ্রোতার হৃদয় জয় করা জুবিন গার্গের সৃষ্টি ও সুর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে স্পর্শ করবে। অসমিয়া সংগীতের ইতিহাসে তাঁর সৃষ্টি এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।অসম প্রদেশ বিজেপিও জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছে, তাঁর অমর সৃষ্টিরাজির মধ্য দিয়ে জুবিন গার্গ যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকবেন।

অন্যদিকে, অসম প্রদেশ কংগ্রেসও সামাজিক মাধ্যমে জুবিনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যার সুরে অসমিয়ার হৃদয় জয় হয়েছিল—অসমের প্রাণের শিল্পী, সংগীতের এক অনন্য স্রষ্টা জুবিন গার্গকে প্রথম স্মৃতিবার্ষিকীতে সশ্রদ্ধ স্মরণ। তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি সুর, প্রতিটি গান এবং প্রতিটি স্মৃতি অসমিয়ার হৃদয়ে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।’

সদৌ অসম ছাত্র সংস্থার (আসু) মুখ্য উপদেষ্টা ড. সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্যও অসমিয়ার হৃদয়ের প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুবিনের চিন্তা, সৃষ্টি, কণ্ঠ এবং অসমকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে করা তাঁর বিভিন্ন কাজ অসমের মানুষের মধ্যে সবসময় জীবন্ত হয়ে থাকবে।অসম পুলিশও প্রয়াত শিল্পীকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুবিনের কণ্ঠ ও সুর মানুষের হৃদয়, আবেগ এবং স্মৃতিতে অনন্তকাল অনুরণিত হয়ে থাকবে।

অরুণাচল প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী চৌনা মেইনও জুবিন গার্গকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, অসমের প্রাণের এই শিল্পী তাঁর সংগীতের মাধ্যমে ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।অলিম্পিক পদকজয়ী অসমের ক্রীড়াবিদ লাভলীনা বরগোঁহাইও সামাজিক মাধ্যমে জুবিন গার্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই শুধু অসমেই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেও তাঁর স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হচ্ছে। তাঁর গান, সুর, কণ্ঠ ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রয়াত শিল্পী এখনও মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছেন—মৃত্যুর এক বছর পরেও যার প্রতিফলন দেখা গেল সর্বত্র।

অন্যদিকে, জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার অসমজুড়ে অনুরাগী, শিল্পী এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে একাধিক স্মরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কামারকুচিতে জুবিনের স্মৃতিসৌধে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় তিন দিনের ‘জুবিন দিবস’ পালন। সেখানে প্রার্থনা, প্রদীপ প্রজ্বলন, গামোছা অর্পণ, গান এবং প্রয়াত শিল্পীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর মতো কর্মসূচি ছিল। অনুষ্ঠানে জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে অসমে তদন্ত এখনও চলছে। অসম সিআইডির নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সাতজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট জমা দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক সেশনস আদালতে বিচারাধীন অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে জুবিনের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত করেছিল। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের তদন্তে মৃত্যুর ঘটনায় কোনও অপরাধমূলক হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় সাঁতার কাটতে গিয়ে জুবিন গার্গের মৃত্যু হয়। এক বছর পর তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে অসমজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করছেন তাঁর অনুরাগী ও রাজ্যের মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker