NE UpdatesAnalyticsBreaking News
জুবিনকে হারানোর এক বছর ! শূন্যতা মেনে নিতে শেখা যায়, মেনে নেওয়া যায় না : হিমন্ত

গুয়াহাটি, ১৯ সেপ্টেম্বর : জুবিন গার্গকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে প্রয়াত শিল্পীকে আবেগঘন বার্তায় স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। ১৯ সেপ্টেম্বর জুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পীকে ছাড়া একটি বছর তাঁর কাছে এখনও অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে। তাঁর অনুপস্থিতি এমন এক শূন্যতা, যার সঙ্গে বেঁচে থাকতে শেখা যায়, কিন্তু সত্যিকার অর্থে কখনও মেনে নেওয়া যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘জুবিনকে ছাড়া একটি বছর এখনও অবাস্তব মনে হয়। এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন এখনও মনে হয় সে বুঝি হেঁটে এসে সামনে দাঁড়াবে। তারপরই তাঁর চলে যাওয়ার বাস্তবতা সামনে আসে।’ শোককে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এটাই শোক—একটি শূন্যতার সঙ্গে বেঁচে থাকতে শেখা, কিন্তু তাকে কখনও সত্যিকার অর্থে মেনে নিতে না পারা।’
অসমের সাংস্কৃতিক পরিসরে জুবিন গার্গের অবদানের কথা স্মরণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁকে রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে একই সারিতে রাখেন। তিনি বলেন, জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা, বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা এবং ড. ভূপেন হাজরিকা অসমের অমূল্য সম্পদ। জুবিনও তাঁদের মতোই অসমের সম্পদ। তাঁর গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কথায়, জুবিন ছিলেন অসমের মানুষের আনন্দ-বেদনার প্রতীক। মানুষের স্মৃতিতে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
এ দিন জুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গুয়াহাটিতে বিজেপির আয়োজিত রক্তদান শিবিরেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রক্তদান করার পর জুবিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একটি ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি জুবিনের গানের অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি তাঁর গান শুনতে ভালোবাসেন।
গুয়াহাটিতে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংসদ, বিধায়ক এবং অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়াও উপস্থিত ছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচিতে প্রায় ৩,৮০০ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর আগে প্রায় ১,০০০ জন রক্তদান করেছিলেন।
জুবিনকে ‘মানুষের মানুষ’ এবং অসমের প্রিয় রকস্টার হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংগীত ও শিল্পকলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপযুক্ত মাধ্যম হতে পারে রক্তদান। তিনি জানান, জুবিনের জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে ভবিষ্যতেও রক্তদান শিবির আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।



