India & World UpdatesHappeningsBreaking News

দেরিতে বিমান, ৯ বছর পর এয়ার ইন্ডিয়াকে ১.৩৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ওয়েটুবরাক, ৪ আগস্ট: প্রায় নয় বছর পর অবশেষে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেলেন কেরলের এক ব্যক্তি। ২০১৭ সালে বিমান দেরিতে পৌঁছনোর কারণে মুম্বই বিমানবন্দরে রাত কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। পরে সৌদি আরবে নিজের কর্মস্থলে ফিরতে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা খরচ করে নতুন টিকিট কাটতে হয়। এই ঘটনায় তিরুবনন্তপুরমের জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এয়ার ইন্ডিয়াকে মোট ১.৩৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

৪২ বছর বয়সি কপিলদেব সৌদি আরবে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। ছুটিতে কেরলে এসেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফেরার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার একটি সংযোগকারী বিমানের টিকিট কেটেছিলেন। তাঁর যাত্রাপথ ছিল তিরুবনন্তপুরম থেকে মুম্বই, সেখান থেকে সৌদি আরব।

তিরুবনন্তপুরম-মুম্বই বিমানটি দুই ঘণ্টারও বেশি দেরিতে ছাড়ে। কপিলদেবের দাবি, বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীদের তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই দেরির কারণে তাঁর পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে কোনও সমস্যা হবে কি না। তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু মুম্বই পৌঁছনোর সময় তাঁর সৌদি আরবগামী পরবর্তী বিমানটি ইতিমধ্যেই ছেড়ে দিয়েছিল।

পরের দিন সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানে মাত্র একটি আসন খালি ছিল, সেটি বিজনেস ক্লাসে। সেই টিকিট কেনার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। পরে সৌদি আরবে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা জোগাড় করে নতুন টিকিটের ব্যবস্থা করেন।

আগের যে টিকিটটি তিনি ব্যবহার করতে পারেননি, তার মূল্য-সহ কপিলদেবের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। তাঁর আরও অভিযোগ, মুম্বই বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার সময় এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তাঁকে খাবার বা থাকার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।

তবে এয়ার ইন্ডিয়া পরিষেবায় কোনও ত্রুটি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। বিমান সংস্থার দাবি, যে বিমানটি তাঁকে নিয়ে মুম্বই যাওয়ার কথা ছিল, সেটি দেরিতে আসায় ওই ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার কল সেন্টার থেকে কপিলদেবকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জলখাবার দেওয়া হয়েছিল এবং মুম্বইয়ের কর্মীরা পরের দিন রিয়াধগামী বিমানে তাঁকে পুনরায় বুক করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনও আসন খালি ছিল না—এমন দাবিও করে বিমান সংস্থাটি। তাদের আরও বক্তব্য, কপিলদেবকে হোটেলে থাকার ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়ার এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। কমিশন জানায়, বিমান দেরি হওয়ার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করার মতো কোনও প্রমাণ এয়ার ইন্ডিয়া পেশ করতে পারেনি। বিলম্বটি এমন কোনও প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত সমস্যার কারণে হয়েছিল, যা বিমান সংস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে—এমন প্রমাণও দেওয়া হয়নি। ফলে পরিষেবায় ত্রুটির জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকেই দায়ী করে কমিশন।

কপিলদেবের আর্থিক ক্ষতির জন্য ৮৩ হাজার টাকা, মানসিক যন্ত্রণার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। এয়ার ইন্ডিয়া অবশ্য ওই রায় মেনে নিয়ে কপিলদেবকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিয়েছে।

 কপিলদেব জানিয়েছেন, “আমরা কখনও ভাবিনি যে সত্যিই ক্ষতিপূরণ পাব। টাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের যে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তা মানুষকে জানানো।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker