Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শিলচরে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের ৫৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন

ওয়েটুবরাক, ২৯ মার্চ : গত বৃহস্পতিবার জি. সি. বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, কাছাড় জেলা সমিতির উদ্যোগে সংগঠনের ৫৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল দক্ষিণ আসাম প্রান্তের অধ্যক্ষ তথা জি. সি. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আসাম প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক গৌরাঙ্গ রায়। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষণ মণ্ডল সহ-সভাপতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনুপ দে, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল কাছাড় জেলার অধ্যক্ষ ও ডি. এন. এন. কে. গার্লস’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ড. অভিজিৎ সাহা।
১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে নাগপুরে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ম্যাকলে প্রণীত ‘বাবু তৈরির কারখানা’ থেকে মুক্ত করে ভারতকেন্দ্রিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫৮ বছরে সংগঠনটি নিরন্তরভাবে ভারতীয় দর্শনভিত্তিক, সর্বাঙ্গীণ বিকাশমুখী ও জাতি-গঠনের শিক্ষার প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের বহু বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের কর্মকাণ্ড সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল কোনও নতুন দর্শনের আমদানি করেনি; বরং ভারতের প্রাচীন দর্শনে থাকা ‘মানুষ গড়ার শিক্ষা’–নীতিকেই কেন্দ্র করে কাজ করে চলেছে।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। এরপর ধ্যেয়-শ্লোক ও ধ্যেয়-বাক্য পাঠ করেন জি. সি. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কেশব নুটিয়াল। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ড. অভিজিৎ সাহা। জনতা কলেজের শিক্ষিকা ড. মুন্নী দে পরিবেশন করেন সংগঠন-গীত।
প্রধান বক্তা গৌরাঙ্গ রায় তাঁর ভাষণে ভারতের ইতিহাসের উল্লেখ করে বর্তমান শিক্ষা পরিসরে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং সকলকে সাধ্য অনুযায়ী সংগঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। অনুপ দে তাঁর বক্তব্যে রামনবমীর তিথিকে প্রতিষ্ঠা–দিবস হিসেবে গ্রহণের পেছনের ইতিহাস ব্যাখ্যা করেন এবং মণ্ডলের নানাদিক গুরুত্ব সহ তুলে ধরেন।
উপাচার্য নিরঞ্জন রায় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, ভারতীয় জীবনদর্শন ও পাশ্চাত্য দর্শনের তুলনামূলক উল্লেখ করে মানবকল্যাণে ভারতীয় দর্শনের কালজয়ী প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, জি সি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অংশ গ্রহণ করেন। ধন্যবাদ প্রস্তাব পাঠ করেন ড. বিশ্ববিজয় ভট্টাচার্য।



