Barak UpdatesHappeningsBreaking News

আর এস এস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১১ নং ওয়ার্ডে হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ওয়েটুবরাক, ১২ জানুয়ারি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ পূর্তি শুধুমাত্র একটা সংগঠনের একশত বছর পূর্ণ হওয়া নয়, বরং এটি হিন্দু একতা এবং দেশাত্মবোধের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এই মহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সারা দেশের সাথে শনিবার শিলচর এগারো নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু সম্মেলন। শ্মশান রোড দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে বিকেল চার ঘটিকা থেকে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলনে দুই শতাধিক জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গীতা পাঠ করেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং এগারো নং ওয়ার্ডের বিশিষ্টজনেরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করেন। এরপর উন্মোধনী সংগীত পরিবেশন করেন রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির সেরিকাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন এগারো নং ওয়ার্ড হিন্দু সম্মেম্মলন আয়োজক সমিতির সভাপতি দীপায়ন পাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে হিন্দুরা বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ে, বিভিন্ন জাতে বিভক্ত, কেউ একেশ্বরবাদী, কেউ বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী, কেউবা একটা চিহ্নকে সামনে রেখে ঈশ্বর আরাধনা করেন কেউ নিজের গুরুদেবের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে চান। হিন্দুদের মধ্যে এই সব বিভেদ দূর করে একতার বাঁধন আরোও দৃঢ় করাই এই হিন্দু সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য।

এই সম্মেলনে বৌদ্ধিকদাতা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার ড° অভিজিত নাথ, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির দক্ষিন আসাম প্রান্তের প্রচারিকা সুপর্ণা দে এবং শিলচর শংকর মঠের অধ্যক্ষ স্বামী বিজ্ঞানানন্দজি মহারাজ। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন নুপুর দত্ত এবং হিন্দু একতার উপর গীতিনাট্য পরিবেশন করে নৃত্যসাধনা ক্রিয়েটিভ সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস এর ছাত্রীরা। বৌদ্ধিক দাতা সুপর্ণা তার বক্তব্যে সনাতন ধর্ম, হিন্দু সংস্কৃতি ও পঞ্চ পরিবর্তন এর উপর মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন। এই পঞ্চ পরিবর্তনের মূল স্তম্ভগুলো হলো পরিবার প্রবোধন, সামাজিক সমরসতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বদেশী জাগরণ, এবং নাগরিক অনুশাসন। তিনি  মাতৃশক্তির জাগরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

অপর বৌদ্ধিক দাতা ড° অভিজিৎ নাথ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের স্থাপনালগ্ন থেকে এই একশত বছরের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে যে কোনো দুর্যোগ বা সংকটে নিজের জীবন বাজি রেখে সমাজের সেবায় সর্বপ্রথম যারা ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের কর্মকর্তা ও স্বয়ংসেবকবৃন্দ। উনি বলেন যে হিন্দু ধর্মের প্রতিটি আচার ব্যবহার বিজ্ঞান সম্মত এবং প্রতিটির বৈজ্ঞানিক আধার বিদ্যমান। শংকর মঠের স্বামী বিজ্ঞনানন্দ মহারাজ তাঁর বক্তব্যে হিন্দু একতার উপর আলোকপাত করেন। উনি পাকিস্তান, আফগানিস্থান, বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বুঝিয়ে বলেন যে কেন হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য আরোও সুদৃঢ় করা উচিত।

 

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে স্বামীজী শপথ বাক্য পাঠ করান এবং উপস্থিত সবাই সক্রিয় হিন্দু, বিজ্ঞ হিন্দু, আচরণশীল হিন্দু হিসাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংকল্পবদ্ধ হন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন সাগর দাস এবং ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য পেশ করেন আয়োজক সমিতির সম্পাদক অভিজিত অমিতাভ দেব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker