Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বরাকে বেঞ্চ : রাজভবন থেকে রাজ্য সরকার হয়ে দাবিপত্র পৌঁছাল হাইকোর্টে

ওয়েটুবরাক, ২৮ এপ্রিলঃ বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের দাবি সংক্রান্ত ফাইলের নড়াচড়া দ্রুতই হচ্ছে। রাজভবন, রাজ্য সরকার হয়ে এখন তা গৌহাটি হাইকোর্টের বিবেচনাধীন। জুডিশিয়াল ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম সচিব হিটলার পেগু জানিয়েছেন, গত ১২ জানুয়ারি শিলচর জেলা বার সংস্থার আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব রাজ্যপালের কাছে যে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিলেন, রাজভবন সচিবালয় গত ১৩ মার্চ সেটি রাজ্য সরকারের কাছে প্রেরণ করে। সরকারের তরফ থেকে গত ২৪ এপ্রিল একে গৌহাটি হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
একে তাঁদের আন্দোলনের ‘সাফল্যের এক ধাপ’ বলে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ধ্রুবকুমার সাহা। ধর্মানন্দ দেব এক পা এগিয়ে বলেন, আসলে দুটো পদক্ষেপ সফল হয়েছে। রাজভবন থেকে রাজ্য সরকার, রাজ্য সরকার থেকে হাইকোর্ট।

প্রবীণ আইনজীবী প্রসেনজিত দেব জানান, বল এখন হাই কোর্টে। তারাই বেঞ্চ স্থাপনের ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী। তাদের ইতিবাচক বা সম্মতিসূচক চিঠি পেলেই রাজ্য সরকার এর পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং রাজ্যপালকে জানাবে। রাজ্যপালের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রেরণ করা হবে। কেন্দ্র প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফাইল পাঠাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন জানালেই গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।
দাবি কমিটির সহসভাপতি ড. বিভাস দেব বলেন, হাই কোর্ট থেকে শুরু করে প্রতি পদক্ষেপে যাতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সে জন্য জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে চাপ অব্যাহত রেখে চলেছেন তাঁরা। আজই গিয়েছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রছাত্রী, গবেষকদের কাছে হাইকোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
বরাক উপত্যকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের দাবি যে তিন দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো, সে কথা উল্লেখ করে কমিটির উপদেষ্টা তৈমুর রাজা চৌধুরী বলেন, তবে আগে এই দাবি আইনজীবীদের মধ্যে সীমিত ছিল। এ বার তা জনতার দাবিতে পরিণত হয়েছে। কমিটি গঠন করে যেমন তাঁদের মতো অন্য পেশার মানুষদের যুক্ত করা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের বেঞ্চ চেয়ে স্মারকলিপি পাঠানো হচ্ছে।
দাবি বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল চক্রবর্তীর ঘোষণা, এবার আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে শ্রীভূমি-হাইলাকান্দিতেও। ধর্মানন্দ দেব ডিমা হাসাও জেলার মানুষ এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, হাফলং থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব ২৭৭ কিলোমিটার এবং শিলচরের দূরত্ব মাত্র ৯৭ কিমি।
শিলচরের রূপম কার্যালয়ে আয়োজিত আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে মতবিনিময় করেন দেবমিতা চক্রবর্তী, তুহিনা শর্মা, শান্তনু নায়েক, নিখিল পাল, রসরাজ দাস, সৌমিত্র দত্তরায় প্রমুখ।


