Barak UpdatesHappeningsBreaking News
গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট: রাজ্য সরকারের আচরণে কঠোর মন্তব্য হাই কোর্টের

ওয়েটুবরাক, ২ নভেম্বর: শিলচরে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট নির্মাণের জন্য ডলু চা বাগানের জমি-অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে এবং শ্রমিকদের রুজি-রুটি ও বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন গৌহাটি হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করে, তিন বছরেও সরকার এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য আদালতে পেশ করেনি। তারিখের পর তারিখ দিলেও তাদের জবাব না পেয়ে শুক্রবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজেশ মজুমদার।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ২০২২ সালে এই মামলা করে নং (WP(C) 4037/2022)। বিবাদী পক্ষে রয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার, এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া, কাছাড়ের জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসার, ডলু চা-বাগান কোম্পানি এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী তিনটি ইউনিয়ন। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর আদালতে তাদের লিখিত বক্তব্য পেশ করে। তিন বছর পরে হলেও ২০২৫-র ৮ সেপ্টেম্বর জবাব জমা দেয় ডলু চা বাগান কর্তৃপক্ষ। আর কেউ এখনও নিজেদের জবাব জমা করেনি। এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার জেলাশাসক ও সার্কেল অফিসারের পক্ষে আইনজীবী ডি নাথ আরও সময় চাইলে বিচারপতি অসন্তোষের সঙ্গে আরও চার সপ্তাহ সময় দিয়ে জানিয়ে দেন, এই সময়সীমার মধ্যে জবাব দাখিল না হলে তৎকালীন জেলাশাসককে আদালতে উপস্থিত হতে হবে।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে মানস দাস ও অরিন্দম দেব এক বিবৃতিতে জানান, গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে অসম রাজ্য সরকার ডলু চা-বাগানের ২৫০০ বিঘা ফসলি জমি বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে ও শতাধিক বুলডোজার লাগিয়ে জোরজবরদস্তি অধিগ্রহণ করে। তাতে ৪২ লক্ষ চারা গাছ ও দশ হাজারেরও বেশি ছায়া গাছ উপড়ে ফেলা হয়। শ্রমিকরা কাজ হারান এবং সরকার আরও জমি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের বাসগৃহ থেকে উচ্ছেদেরও পরিকল্পনা করে। শ্রমিকদের প্রতিরোধে সরকার সাময়িক পিছু হঠতে বাধ্য হয় এবং ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সুপ্রিম কোর্টের মামলায় পরিবেশ সংক্রান্ত অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করে। জমি-অধিগ্রহণ করার আগে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সরকার ও প্রশাসনের যেসব পদক্ষেপ নেওয়া অতি প্রয়োজনীয় ছিল, সেগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জমি-অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়, এমনকি জমি অধিগ্রহণ আইনের বিধানগুলিকেও উল্লঙ্ঘন করে। সরকারের এই তড়িঘড়ি জমি-অধিগ্রহণের পেছনে যে বৃহৎ পুঁজি-মালিক ও স্থানীয় ভূ-মাফিয়াদের স্বার্থ জড়িত ছিল তা একেবারেই স্পষ্ট বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, শ্রমিকদের স্বার্থ ও উন্নয়ন দেখলে ফলনশীল ডলু চা-বাগানের জমি-অধিগ্রহণ না করে এয়ারপোর্টের জন্য বরাকের অন্যত্র জমি নেওয়া যেত। এরজন্য জমি অধিগ্রহণের পূর্বে প্রয়োজনীয় সার্ভের কাজও করা হয়েছিল।



