India & World UpdatesHappeningsBreaking News
পাকিস্তানের হাত ছেড়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার

ওয়েটুবরাক, ১১ জুলাই: স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক কখনওই সরলরেখায় চলেনি। গোড়ায় নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ থাকলেও একটা সময় ইসলামাবাদের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ে জাকার্তা। শুধু তা-ই নয়, সংঘাত পরিস্থিতিতে হাতিয়ার পাঠিয়ে রাওয়ালপিন্ডির সেনাকর্তাদের পাশে দাঁড়াতেও দেরি করেনি তারা। আবার সেই মধুচন্দ্রিমা কাটিয়ে ভারতের হাত ধরে ফেলল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনবহুল রাষ্ট্র। চলতি বছরে ৬ জুলাই সে দেশ সফরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সারে দুই দেশ। এতে ব্রহ্মস এবং ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহেরও উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে, কূটনৈতিক দিক থেকে যাকে নয়াদিল্লির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে মনে করা হচ্ছে।
কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হয়ে সুবিয়ান্তো বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে আমি জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষা করিয়েছি। সেই রিপোর্ট থেকে জানতে পারি আমার শরীরে ভারতীয় ডিএনএ রয়েছে। এ দেশের সভ্যতা ও গণতন্ত্রের দ্বারা ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি প্রবল ভাবে প্রভাবিত। তাই যখনই ভারতীয় সঙ্গীত শুনি, তখনই আনন্দে আমার শরীর নেচে ওঠে।’’
সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, কৌশলগত দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বে লাভবান হচ্ছে ভারত। সংশ্লিষ্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে একটি সঙ্কীর্ণ সামুদ্রিক জলপথ। এর নাম মলাক্কা প্রণালী। এই রাস্তা দিয়েই পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি ঘরের মাটিতে আমদানি করে থাকে চিন। সংঘাত পরিস্থিতিতে সেটা বন্ধ হলে তাসের ঘরের মতো ভাঙতে পারে বেজিঙের অর্থনীতি। আর তাই জাকার্তাকে পাশে পাওয়া নয়াদিল্লির জন্য জরুরি।



