Barak Updates
যুদ্ধে ব্যবহৃত বিশালাকার ট্যাঙ্ক এবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে

ওয়ে টু বরাক, ২৩ এপ্ৰিল : ভারতীয় সশস্ত্ৰ বাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক ও দু’টি সাজসরঞ্জাম বহনকারী ও উদ্ধারকারী যান এবার শোভাবৰ্ধন করবে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার মিউজিয়ামে৷ এগুলো বিভিন্ন যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূৰ্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা ভারতীয় সশস্ত্ৰ বাহিনীর সাহস এবং স্থিতিস্থাপকতার প্ৰতীক৷ প্ৰায় এক মাস আগে পুনের কিরকি ডিপো থেকে এই বিশালাকার ট্যাংক ও শস্ত্ৰ উদ্ধারকারী যানগুলো নিয়ে তিনটি ট্ৰেলার শিলচরের উদ্দেশে যাত্ৰা শুরু করে৷ অবশেষে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌছয় এই ট্ৰেলারগুলো৷
এই দীৰ্ঘ যাত্ৰাপথে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে নিরাপত্তার প্রদানের ব্যবস্থা করেন শ্ৰীকোণার ৩৮ আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা৷ এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ট্রেলারগুলো আসার পর স্বাগত জানান উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ, নিবন্ধক ড. প্রদোষকিরণ নাথ, বিত্ত আধিকারিক ড. শুভদীপ ধর, সিডিসি ডিরেক্টর জয়ন্ত ভট্টাচার্য, মিউজিয়াম কমিটির চেয়ারম্যান ড. দীপজ্যোতি চৌধুরী, কনভেনার অরিজিৎ গোস্বামী প্রমুখ।
প্ৰসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ জাদুঘরে শোভাবৰ্ধনের জন্য এই দুৰ্লভ সশস্ত্ৰযান আনা সম্ভব হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচাৰ্য তথা ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্ৰাক্তন চিফ এয়ার মাৰ্শাল অরূপ রাহা ও উপাচাৰ্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থের অক্লান্ত প্ৰচেষ্টায়৷ তাঁদের কৌশলগত নিৰ্দেশনা ও অটল অঙ্গীকারের পাশাপাশি ভারতীয় সশস্ত্ৰ বাহিনীকে সম্মান জানাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ জাদুঘরকে দেশপ্ৰেমিকদের অনুপ্ৰেরণা ও সামরিক ঐতিহ্যের কেন্দ্ৰে রূপান্তরিত করেছে৷

নতুন দিল্লির সেনা সদর দফতর ও কিরকি ডিপোর সহায়তায় ট্যাঙ্কগুলি এখন জাদুঘরের সংগ্ৰহকে আরও সমৃদ্ধ করবে৷ এই জাদুঘরে ইতিমধ্যেই যুদ্ধের স্মারক, ইউনিফৰ্ম, রেজিমেন্টাল নিদৰ্শন, বিমানের মডেল এবং কিংবদন্তি ভারতীয় বীরদের আলোকচিত্ৰ সংগৃহীত রয়েছে৷ এই জাদুঘরের জন্য খুব শিগরিরই জবলপুরের কেন্দ্ৰীয় অৰ্ডন্যান্স ডিপো থেকে লুপ্ত ছোট এবং মাঝারি অস্ত্ৰও আনা হচ্ছে, যা জাতীয় প্ৰতিরক্ষা এবং ঐতিহাসিক বীরত্বের বৰ্ণনা এতদঅঞ্চলের মানুষকে আরও উদ্দীপ্ত করবে৷
এব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে উপাচাৰ্য অধ্যাপক পন্থ জানিয়েছেন, এই জাদুঘরটি শুধু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্ৰথম নয়, এটি অনুপ্ৰেরণারও এক আলোকবৰ্তিকা৷ এই জাদুঘরে সজ্জিত প্ৰতিটি জিনিসই স্বাধীনতা অৰ্জনে অসাধারণ আত্মত্যাগের প্ৰতিফলন৷ বৰ্তমান সহ আগামী প্ৰজন্মের সঙ্গে এই বীরগাঁথা ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগে গৰ্বিত বিশ্ববিদ্যালয়৷
তিনি জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্ৰাক্তন চিফ এয়ার মাৰ্শাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচাৰ্য অরূপ রাহা এই জাদুঘরকে সজ্জিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন৷ আচাৰ্য পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তিনি দেশের মধ্যে প্ৰথম এই উচ্চশিক্ষা প্ৰতিষ্ঠানে এমন ঐতিহাসিক জাদুঘর তৈরিতে গুরুত্বপূৰ্ণ সামরিক সহায়তা ও অনুমোদন অৰ্জনে এক অপূরণীয় ভূমিকা পালন করেন৷ এই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সবার মধ্যে আরও দেশপ্ৰেম জাগাতে গুত্বপূৰ্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন উপাচাৰ্য৷



