NE UpdatesBarak UpdatesHappenings
অবশেষে কাশ্মীর থেকে শিলচরে ফিরলেন দেবাশিস-মধুমিতারা
ওয়েটুবরাক, ২৪ এপ্রিল: নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বাড়ি ফিরলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য। সামান্য কাটাছেঁড়া হলেও সুস্থ অবস্থাতেই পৌঁছালেন স্ত্রী ড. মধুমিতা দাস ভট্টাচার্য ও পুত্র দ্রোহদীপ। সবারই এককথা, অভিজ্ঞতা বলুন আর যন্ত্রণা বলুন, এই সফর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনে থাকবে। আর মনে থাকবে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসার কথা। তাঁদের অধিকাংশই অচেনা।
দেবাশিস জানান, যে ঘোড়ায় চড়ে তিনি বৈসরন ভ্যালিতে ঢুকেছিলেন, সেই ঘোড়ামালিকের সঙ্গে তখন তাঁর পাঁচ কথাও হয়নি। তিনিই ফেরার পথে যখন তাদের দেখলেন, অস্থির হয়ে ওঠেন তাদের সেবাযত্নের জন্য। দ্রুত পৌঁছে দেন গাড়ির কাছে। একদিনের পরিচয়ে গাড়িচালক যেমন গান পয়েন্টের কথা শুনে আপনজন হয়ে উঠলেন, তেমনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হলেও তিনি গাড়িচালকের কাছে সব শুনে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন, “তাঁদের আমাদের বাড়ি নিয়ে এসো।”
বিধ্বস্ত অবস্থার জন্য দেবাশিসরা অবশ্য গাড়িচালকের বাড়ি যাননি। গিয়েছেন সেই হোটেলে, যেখানে তাদের ঘর রাখাই ছিল। দেবাশিসের কথায়, হোটেলের মালিক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মী আমাদের যে ভাবে আপ্যায়িত করলেন, সেগুলি জঙ্গিযন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে ।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোনালেন, “এত ফোন আসছিল যে, আর নিতে পারছিলাম না। মোবাইল সাইলেন্ট করে বসে থাকি। তখনই মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি ফোন করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শর্মা লাইনে ছিলেন। কিন্তু ফোন ধরিনি বলে কথা হয়নি।” তবে কাছাড়ের এসপি নোমল মাহাত্তা ঘনঘন যোগাযোগ করেছেন, আশ্বস্ত করেছেন । জেলা প্রশাসনও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, জানান ভট্টাচার্য।
কিন্তু ওই ধরনের পরিস্থিতিতে সকলের সহযোগিতার পরেও নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দেবাশিস জানান, শ্রীনগর বিমানবন্দরের অবস্থা হাটবাজারের চেয়ে বাজে ছিল। এত কথা হচ্ছিল যে, কোনও অ্যানাউন্সমেন্ট শোনা যাচ্ছিল না। মানুষ অসহায় ভাবে ছোটাছুটি করছিলেন।
পরে তাঁরা বিমান পেলেন বটে, কিন্তু সেটি তিনঘন্টা দেরিতে ছাড়ে। বিমানে কারিগরি ত্রুটি ছিল, তা সারাতেই সময় লেগেছিল।
এত সবের পরেও ভট্টাচার্য পরিবারের কাছে স্বস্তির যে, তারা অবশেষে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।



