India & World UpdatesHappeningsBreaking News

ভোটারদের উদ্দেশে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর খোলা চিঠি

ওয়েটুবরাক, ৫ মে : বিদায় প্রিয় বলাগড়বাসি বন্ধুগন।

আমি তৃনমূল দলের বিধায়ক ছিলাম।আর সামান্য কিছু সময় বাকি । তারপরই আমি প্রাক্তন হয়ে যাব। চলে যাবার আগে আমি আমার শ্রদ্ধাবনত শেষ প্রনাম আপনাদের পায়ে রেখে গেলাম।
আপনারা খুব ভালো মানুষ। সত্যি বলতে কি- খুব খারাপ লাগবে আপনাদের ছেড়ে থাকতে। আমি আপনাদের খুব ভালোবেসে ফেলেছিলাম। আপনাদের মত প্রানখোলা মানুষ পাওয়া খুবই ভাগ্যের দরকার । আপনাদের মাঝে চিরদিন থাকব বলে খানিক জায়গাও কিনেছিলাম। ইচ্ছে ছিল একটা ছোট্ট বড়ি বানাবার। কিন্ত পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সে আর হয়ে উঠল না। যাককে…!

যাবার আগে সেই মানুষটার কথা খুব মনে পড়ছে যে সেই ভোটের সময় বলেছিল, আমি বিজেপি করি। তবে এইবার আমার ভোট আপনার নামেই যাবে। সেই যে মানুষটা যে বলেছিল আমি বামপন্থী কর্মী হয়েও বলছি আপনার জেতা দরকার। এইসব খেটে খাওয়া দুঃস্থ দরিদ্র মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর আশীর্বাদে আমার মত একজন অতি সামান্য সাধারন লোক- যাকে একদিন ফুটপাতের হোটেলে খেয়ে রেলষ্টেশনে গামছা বিছিয়ে শুয়ে থাকতে হয়েছিল, সেই মানুষ হয়ে যেতে পেরেছিল সম্মানীয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একজন সদস্য।

আমার মত তুচ্ছ নগন্য একজন লোকের এই প্রথম ওখানে পৌঁছাতে পারা সম্ভব হয়েছিল একমাত্র আপনাদের জন্য। এতে আর কার কি হয়েছে তা জানিনা, তবে খেটে খাওয়া বঞ্চিত লাঞ্ছিত মানুষ হয়ত আমার কথা জেনে হতাশার ঘনঘোর অন্ধকার থেকে আলোকিত ভুবনের দিকে এগিয়ে যাবার একটা অনুপ্রেরনা পেলেও পেতে পারে।

যে অভিযাত্রী হিমালয় শীর্ষে চড়বার জন্য যাত্রা শুরু করে , অনেক বাঁধা বিপত্তি ঝড় ঝঞ্ঝা পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছে তারপর কি করে? নেমে আসে। নেমে যথাস্থানে ফিরে আসে। আমাকে এখন ফিরে যেতে হবে পুরাতন পথ ধরে নিজের পুরাতন ঠিকানায়।

আমাকে রুজি রোজগারের জন্য জীবন ভর অনেক জায়গায় গিয়ে অনেক ধরনের কাজ করতে হয়েছে। জীবনের শেষ পর্বে এসে পাঁচবছর বিধায়কের কাজও করে গেলাম। পাঁচবছর ধরে চেষ্টা করেছি আমার সাধ্যমত্য আপনাদের সেবা পরিষেবা দেওয়ার। কতটা পেরেছি আর কতটা পারিনি সেটা আপনারা বলবেন। যদি সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন আশীর্বাদ দেবেন। যদি অসন্তষ্ট হয়ে থাকেন নিন্দা মন্দ যা দেবেন সেটাও আমার প্রাপ্য।

আপনারা জানেন এবার আমাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। দলটা মাননীয়া মমতা ব্যানাজীর।তাঁরই শ্রমে ঘামে তৃনমূল দলটা গড়ে উঠেছে। তিনি তাঁর দলের টিকিট কাকে দেবেন, আর কাকে দেবেননা সবটাই তাঁরই মর্জি। এখানে কার কি বলার থাকতে পারেনা।

আমাকে যে এবার আর টিকিট দেওয়া হবেনা আমি সেটা- সেই ২৪শের লোকসভার ভোটের সময় থেকেই জানতাম। যেদিন প্রকাশ্য জনসভায় মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী আমাকে বলেছিলেন- ‘আপনাকে আর দলের কোন কাজ করতে হবেনা’।
এটা ছিল দল থেকে মৌখিক বহিষ্কার। শুধু এটা জানতাম না- আমার প্রতি হঠাৎ ওনার বিরূপ হয়ে যাবার কারন কি!

কোন বিধায়ক যা করেনা- আমি করেছি। নিজের বাড়িঘর ফেলে পাঁচবছর বলাগড়ের মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছি। সাধ্যমত মানুষকে সেবা পরিষেবা দিয়েছি। কোন অন্যায় অনৈতিক কাজের সমর্থন করিনি। আপনারাও জানেন প্রানের মায়া ত্যাগ করে রাত দুপুরে অন্যায়কারীদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছি। যা বার বার টিভিতে পত্রপত্রিকায় খবর হয়েছে।

নিজের গাঁয়ে কোন রকম কোন দূর্নীতির দাগ লাগতে দিইনি। যে কারনে আপনারা অনেক মানুষ এমন একটা আশা করেছিলেন- আবার আমিই টিকিট পাব। আপনারা আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলতেন- কেন পাবেন না? আপনি কি করেছেন যে পাবেননা। নিশ্চয় পাবেন। আপনাদের আশা হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে যখন আমার নাম বাদ চলে গেছে।

কোর্টে যখন কাউকে অপরাধী ঘোষনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়- বিচারক মৃত্যু পথযাত্রীকে জানিয়ে দেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির এই এই ধারা অনুসারে সাক্ষ্য সাবুদ দ্বারা প্রমানিত হয়েছে তুমি অপরাধী। তাই তোমাকে এই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আমাকে তেমন কিছু জানানো হয়নি। সরাসরি ঘ্যাচাং।

আমার টিকিটা না পাবার পিছনে- সম্ভাব্য তিনটি বড় কারনের যে কোনও একটি থাকতে পারে। সবই ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মতামত-যেমন শুনেছি সেই কারনগুলো একে একে আপনাদের সামনে রাখছি ।

[১] দিনকয়েক আগে ছিল আমার বিধানসভার শেষ স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং। সেখানে যাবার পরে আমার পাশের বিধানসভার এক বিধায়ক আমাকে দেখে খুবই মর্মাহত গলায় বললেন-আপনাকে টিকিট দিলনা! আপনার তো একেবারে ফ্রেস চেহারা ! তবু দিলনা ? কি আশ্চর্য !

বলাবাহুল্য যে এবার তিনি নিজেও টিকিট পাননি! তিনি যে পাননি তাতে আশ্চর্য নন, আমি পাইনি তাতেই তিনি আশ্চর্য! আমি কিছু বলার আগেই পাশ থেকে বলে উঠল অন্য একজন, কেন দেবে? উনি পাঁচবছর বিধায়ক ছিলেন। এই পাঁচবছরে দলের জন্য কি করেছেন? উনি যখন ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওনার পিছনে দল বিরাট পরিমান টাকা খরচ করেছে। পাঁচবছরে উনি তাঁর কতটা ফিরিয়ে দিয়েছেন? একবার দল খরচ করেছে। আবার করবে? নেড়া বেলতলায় ক’বার যায়?

একটু থেমে আবার বলেন তিনি- আপনার আগে যে বিধায়ক ছিল তাঁর নামে ভুরি ভুরি দূর্নীতির অভিযোগ ছিল। মানুষের চোখে বিষ হয়ে যাওয়ায় দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে আপনাকে দিয়েছিল । তারপর কি হল? সে ছিল সামান্য একটা বিধানসভার বিধায়ক,সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গের এসসিএসটি বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান। আগে যা পায়নি সেই নীলবাতি লাগানো গাড়িও পেয়ে যায়। ছোট্ট ডোবা পিছনে ফেলে সোজা হয়ে যায় একটা সমুদ্রের মালিক। এটা কেন? হিসাব সোজা – আর তোকে পুটি মৌরালা খেতে হবেনা। হাঙ্গর তিমি খা। তুই খা আর আমাকেও খাওয়া। এটাই হচ্ছে দক্ষিনপন্থী রাজনীতি।

একটু থেমে বলেছিলেন তিনি- কেউ দেখে শেখে কেউ ঠেকে শেখে। আপনাদের মত কিছু লোক আছে যারা দেখেও শেখেনা ঠেকেও শেখেনা। উচ্চ নেতৃত্বকে সন্তষ্ট রাখতে হলে সত্তর তিরিশের হিসেবটা বরাবর রাখতে হয়। রেখেছেন আপনি? আমি ঠিক জানিনা লোকটা হয়ত সিপিএম মনোভাবাপন্ন! তাই তাঁর এত ঊষ্মা।

তবে সত্যি বলতে কি আমি দলকে এক পয়সাও ফেরাতে পারিনি। আমি কত মাইনে পাই আর কত আমার খরচা সেটা ফেসবুকের মাধ্যমে আপনাদের অনেকবার জানিয়েছি। আমি জোর গলায় বলতে পারি কোনও বিধায়ক সৎভাবে থাকলে যা মাইনে পায় তাতে তাঁর নিজের খরচাই চালিয়ে নিতে হিমশিম খাবে। তাহলে আমি দলকে দেব কি করে? জানিনা এই অপরাধেই আমার নাম কেটে গেছে কিনা!

[২] বলাগড়ের এক পুরাতন দিনের তৃনমূল নেতা কিছুদিন আগে আমাকে বলছিল যে,বলাগড়ের সোমড়া-২ পঞ্চায়েতে আগামী দিনে একটা জাহাজ বন্দর হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই এখানে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। তখন ব্যবসা বানিজ্য দোকান বাজার অনেক কিছুই গড়ে উঠবে। ফলে বন্দরের আশেপাশের জমিকেনা-বেচায় লাখ লাখ টাকার খেলা হবে। বন্দর এলাকা নির্মানে ঠিকাদার কন্ট্রাক্টর, শত শত কর্মী নিয়োগ হবে।এবং এইসব আয়োজনে একটা বড় ভুমিকা সে নিতে পারবে যার হাতে বলাগড়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার রাশ থাকবে। এবং সেই আধিপত্য বিস্তার হতে পারে- বলাগড়ের বিধায়ক পদটি নিজের অধিকারে রাখতে পারলে।

যিনি এবার টিকিট পেয়েছেন তিনি যেভাবে তৃনমূল দলের উচ্চ নেতৃত্বকে ম্যানেজ করা যায়, সেটা করেছেন। যেভাবে আই প্যাককে, জেলার নেতাদের বশীভূত করা যায়, সেটা করেছে। ফলে সেই প্রার্থী এবার অনেককে টপকে টিকিটটা পেয়ে গেছেন।

যদি এই দুটো কারনে আমাকে টিকিট না দেওয়া হয়ে থাকে সেটা কিছুটা মন্দের ভালো । কিন্ত অন্য যে আর একটা কারন- যেটা এক সাংবাদিক আমাকে বলেছেন- সেটা সত্যি হলে তাঁর চাইতে খারাপ আর কিছু হতে পারেনা।

[৩] সে প্রায় আট নয় মাস আগের কথা। বিধানসভার লনে এক সাংবাদিকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি কথায় কথায় বলেছিলেন– আমি যা বলছি শুনলে আপনার ভালো লাগবেনা। তবে জেনে রাখুন এটা হান্ড্রেড পারসেন্ট সত্যি। এবার আর আপনি টিকিট পাচ্ছেন না।
আমার টিকিট না পাবার কারন?
ভিতরের খবর-! কেউ এটা জানেনা। আমি জেনে গেছি তাই আপনাকে বলছি।তৃনমূলের সঙ্গে অমিতশা’র একটা গোপন ‘ডিল’ হয়েছে। ২৬শের ভোটে যে সব সিটে বিজেপি নিজের ক্ষমতায় জিতবার সে তাঁরা জিতবে। কিন্ত যে সব সিটে অল্প মার্জিনে গতবার হেরে গেছে এমন তিরিশটা সিট তাঁদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। না হলে সমস্যা আছে”।

কি সেই সমস্যা সেটা তিনি খুলে বলেননি। তবে এটা বলেছিলেন‘ গতবার আপনার কেন্দ্রে বিজেপি মাত্র সাড়ে ছয়হাজার ভোটে হেরেছিল।বলাগড়ের জিরাটে হচ্ছে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্মভিটা। যে শ্যামাপ্রসাদের দল জনসংঘ আজকে নাম বদলে ভারতীয় জনতা পার্টি। যে জনতা পার্টি গোটা ভারতকে কব্জা করে নিয়েছে। তারা তাঁদের নেতা শ্যামাপ্রসাদের জন্মভূমিতে জিততে পারছেনা- এটা তাঁদের কাছে একটা চরম লজ্জার ব্যাপার ! এবার যে কোনও ভাবে তাঁরা ওই সিট দখল নিতে চাইছে। যে তিরিশটা সিট এবার বিজেপিকে ছাড়তে হবে তাঁর মধ্যে আপনারটা আছে এক নাম্বারে। কাজেই আপনি এবার কিছুতেই টিকিট পাবেননা। দল এমন কোনও ক্যাণ্ডিডেটকে দেবে যেন সে জিততে না পারে !

আমি ঠিক জানিনা তাই কি আমার পরিবর্তে ওই রকম এক প্রার্থীকে দাঁড় করানো হয়েছিল ! যার নাম ঘোষনার পরেই দলীয় কর্মীরা বলে উঠেছিল- যেন চামচে করে বলাগড় সিটটা বিজেপির মুখে তুলে দেওয়া হল।

প্রার্থী যেমন তাঁর চাইতে সেই লোকগুলো ছিল আরও মারাত্মক যারা প্রার্থীকে ঘিরে রেখেছিল।

আমি যখন২১শে নির্বাচনে দাঁড়াই বলাগড়ের এই সিটে ১৮র লোকসভা ভোটে বিজেপির চাইতে তৃনমুল ৩৬ হাজারের চাইতে বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল। সেই ৩৬ হাজার কভার করে আরও সাড়ে ছয় হাজার ভোট পেয়ে আমি জিতে ছিলাম।
২৪শের লোকসভার ভোটে মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী জানিনা কি কারনে আমাকে নির্বাচনী প্রচার থেকে সরিয়ে রেখে ত্রিমুর্তী নামে সম্মান জানিয়ে এলাকার তিন নেতা- যাঁদের বলাগড়ের মানুষ শনি রাহু কেতু নামে ডাকে, তাঁদের উপরে রচনা ব্যানার্জীকে জেতাবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

এই নেতারা এমন নেতা, এত তাঁদের জনসমর্থন যে লোকসভা বিধানসভার ভোটে এঁদের নিজেদের বুথে, নিজেদের পঞ্চায়েতে পর্যন্ত কোনদিন দলকে জেতাতে পারেনা।
তবে এটা ঠিক যে এরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেতে! সে তো গায়ের জোরে-ছাপ্পা ভোট মেরে । সেটা করে বলেই এঁদের কর্মকান্ডে মানুষ তিতি বিরক্ত।মানুষ তাঁদের নাম পর্যন্ত শুনতে চায়না, মুখ দেখতে পছন্দ করেনা। তো তাঁরা রচনা ব্যানার্জীর জন্য যখনই প্রচারে নেমেছে এঁদের দেখেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে রচনা ব্যানার্জী অন্যত্র জিতলেও বলাগড়ে প্রায় সাড়ে ছয়হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন ।

যারা নিজেরা হেরো সেই নেতাদের উপর যাকে জেতাবার দায়িত্ব পড়বে তাঁর কি অবস্থা হতে পারে বুঝতেই পারছেন। আবার ২৬শে তৃনমূলের প্রার্থীর প্রচার প্রসারের দায়িত্ব তবে কি জেনে বুঝেই ওই হেরো নেতাদের হাতে সমর্পন করে দেওয়া হয়েছিল?

বলাগড়ের এক ইটভাটার মালিক, বিজেপির পুরাতন দিনের নেতা –যার এবার বিজেপির টিকিট পাবার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। তাঁর সঙ্গে আমার তেমন কোন ঝগড়া বিবাদ নেই। দেখা হলে হেসে কথা বলে। সেই যখন এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছিল তাঁর সঙ্গে আমার বিডিও অফিসের গেটে দেখা হয়েছিল। আমি তখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম- কি দাদা খবর কি? এবার আপনি বিধায়ক টিকিটা পাচ্ছেন তো?
ম্লান হেসে জবাব দিয়েছিল সে – কিছু বলা যাচ্ছেনা। দলে হেব্বি কম্পিটিশান আছে। কার ভাগ্যে শিকে ছিড়বে কিছুই বোঝা যাচ্ছেন।

আমার পরের প্রশ্ন ছিল, কি মনে হয়? এবার বলাগড়ে বিজেপি হারবে না জিতবে? আবহাওয়া কেমন বুঝছেন? বলেছিল সেই নেতা- আপনি টিকিট পেলে আর জিততে পারবনা। আপনি না পেয়ে অন্য কেউ পেলে জেতার একটা চান্স আছে।

আমি যখন ২১শের নির্বাচনে ভোটে জিতেছিলাম পেয়েছিলাম একলক্ষ সাড়ে ছয়হাজার ভোট। আমার বিপরীতে ছিল বিজেপির ছিয়ানব্বই হাজার, সিপিএমের কুড়িহাজার এসইউসির-সাড়ে তিনহাজার, আর নোডায় সাড়ে চারহাজার। অর্থাৎ চব্বিশহাজার ভোট আমার বিরুদ্ধে পড়েছিল। পাঁচবছর ধরে আমি চেষ্টা করেছিলাম ওই চব্বিশ হাজার মানুষকে আমাদের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবার। রাতদিন খেটেছিলাম সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে !

সরকার জনগনের জন্য বছরে তিনবার ট্রাক ভরে জামা কাপড় কম্বল ত্রিপল দেয়। যেটা বিধায়ক বিলি বণ্টন করে থাকে। খবর নিয়ে জানলাম আজ পর্যন্ত কোনদিন তাঁরা কাপড় তো দূর একটা ছেড়া ন্যাঁকড়াও পায়নি। তাই আমি কোন নেতার হাতে ওগুলো না দিয়ে নিজে অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিলি করেছি। এতে অনেক নেতা আমার উপর খাপ্পা হয়ে যায়।

শুনলে অবাক হয়ে যাবেন একটা গাড়ি একলক্ষ বাহান্ন হাজার পাঁচশো পঁচাশি কিলোমিটার ছোটাছুটি করেছে আমাকে নিয়ে। যে কারনে, সরাসরি মানুষের দরবারে পৌঁছে যাবার জন্য, তাঁদের সঙ্গে আমার একটা গভীর নিবিড় আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অঞ্চলে জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

বিজেপি নেতারা জানতো আমি দাঁড়ালে আর বিজেপি জিততে পারবেনা। তৃনমূলের সাহায্যকারী, সংস্থা আই প্যাক অঞ্চলে বারবার সমীক্ষা করেছে। নিশ্চয় তাঁরাও জানত আমি দাঁড়ালে বিজেপি হেরে যাবে। তাঁরা সেই রিপোর্ট যেখানে পৌঁছাবার নিশ্চয় পৌঁছে দিয়েছিল। আর রিপোর্ট পৌঁছে যাবার পরে উচ্চ নেতৃত্ব হয়ত বুঝে গিয়েছিল আমাকে টিকিটা দিলে- আর বলাগড়ে বিজেপি হেরে গেলে অমিতশা’র ভয়ংকর ক্রোধের সামনে পড়তে হবে।- কে জানে সেই ভয়ে হয়ত আমার নাম কেটে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে ।

যা হবার তা হয়ে গেছে। দল যাকে টিকিট দিতে ইচ্ছা করেছে- দিয়েছে। মানুষ যাকে ভোট দেবার দিয়েছে। যদি তাঁরা ভালো করে থাকে আগামী দিনে তাঁর ভালো ফল পাবে। খারাপ করে থাকলে তাঁর খারাপ ফল ভুগবে। মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়ে আর একবার প্রনাম জানিয়ে আমি বিদায় নিলাম। আপনারা ভালো থাকবেন সবাই।

আপনাদের সেবক মনোরঞ্জন ব্যাপারী ।

(মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। বানান অপরিবর্তিত)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker