Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জলাধারে নেমে একের পর এক চারজনের মৃত্যু
ওয়েটুবরাক, ৩১ জুলাই: জলের ট্যাঙ্ক সাফাইয়ের কাজে নেমে মৃত্যু ঘটল একের পর এক চারজনের। শুক্রবার এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে অরুণাচল কুমারপাড়ায়। জলাধারে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসেই প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা।
মৃতরা হলেন সুদীপ পাল ওরফে সম্পু (৪০), দেবাশিস পাল (৪৩), নন্দন পাল (৫২) ও নিলয় পাল (৪৩)। নিলয় নির্মীয়মান পাশের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি পেশায় ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান। তিনজনকে জলে নেমে উঠতে না দেখে তিনিও নেমে পড়েন।মানবিকতার মূল্য দিতে হলো তাঁকে। তিন শ্রমিক কুমার পাড়ারই বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে নির্মাণ কাজ এখনও চলছে। সিঁড়ির নিচের অংশে তৈরি হয়েছিল বিশাল ট্যাঙ্ক। এর মুখ ঢেকে রাখা ছিল। সেখানেই ঘটে এই অঘটন। দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর শুক্রবার সকালে সেটি সাফাইয়ে প্রথমে নামেন রাজমিস্ত্রি দেবাশিস পাল। তিনি চিৎকার করে উঠলে বিষয়টি দেখতে এগিয়ে যান সম্পু। তিনিও উঠছেন না দেখে নামেন আরেক শ্রমিক নন্দন। তিনি জলাধারের ভেতর থেকে আর্তচিৎকার করছিলেন। সে সময় ওই জলাধারের পাশ দিয়ে স্নানে যাচ্ছিলেন নিলয়। চিৎকার শুনে তিনি তাঁদের বাঁচাতে জলে নামলে একই পরিণতির শিকার হন। ততক্ষণে স্থানীয় জনতা জড়ো হন। কিন্তু কেউ সাহায্যে এগিয়ে যেতে সাহস করতে পারছিলেন না। এরমধ্যেই দীপেন্দু দাস নামে এক যুবক কোমরে রশি বেঁধে অন্যদের সহায়তায় তুলে আনেন চারজনকেই। পরে সবাইকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শিলচর সিভিল হাসপাতালে। সেখান থেকে মেডিক্যাল কলেজে। ডাক্তাররা দেখেই চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এতে শোকস্তব্ধ গোটা বরাক উপত্যকা।
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী গৌতম পালকে থানায় আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।


