Barak UpdatesHappeningsBreaking News
গোবিন্দপুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ: অভিজিৎ পালকে ফেসবুকে জবাব দিলেন রাজদীপ রায়

ওয়েটুবরাক, ২৫ জুলাই: গত ২৩ জুলাই গোবিন্দপুরী নামে পরিচিত মৌলানা আহমেদ সাঈদ লস্কর শিলচরের বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুজনের মধ্যে বেশ কিছু সময় কথা হয়। ওই মুহূর্তের কিছু ছবি ক্যামেরাবন্দি করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন ডা. রায়।
এর পরেই কংগ্রেস নেতা তথা শিলচর আসনের পরাস্ত প্রার্থী অভিজিৎ পাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, “নির্বাচনের আগে ধর্মের নামে ভোট চেয়ে বিধায়ক হওয়ার পর আজ সর্বধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে তা অবশ্যই স্বাগত। আমাদের প্রত্যাশা, এই সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, আগামী দিনেও প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে সমানভাবে প্রতিফলিত হোক।”
এবার ফেসবুকেই এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শিলচরের বিধায়ক। তিনি লিখেছেন, “অভিজিৎ পালের একটি পোস্ট আমার নজরে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে আমি নাকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিবেচনায় ভোট চেয়েছিলাম।” অভিজিতের এই দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং মনগড়া বলে অভিহিত করেন।
ডা. রাজদীপের কথায়, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আমি ভারতের সংবিধান এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলাম। জনগণের আশীর্বাদে আমি কংগ্রেস ও শ্রী অভিজিৎ পালকে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হই। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act)-এর চেতনা অনুযায়ী আমি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করে চলেছি। যাঁরা আমার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বা যাঁরা দেননি আমি উভয় পক্ষের জন্যই কাজ করে চলছি। যে কোনো মানুষ প্রয়োজনে আমার কাছে এলে, তাঁর ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর সমস্যাকেই আমি অগ্রাধিকার দিই।”
তাঁর দাবি, তিনি কখনও ‘আমার’ এবং ‘আমার নয়’ এই বিভাজনের রাজনীতি করেননি। আগে ২০১১ সালে নির্বাচনে হেরেছিলেন এবং ২০১৯ সালে জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু কোনও সময়ই সেই নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করেননি।
গোবিন্দপুরী নামে পরিচিত মৌলানা আহমেদ সাঈদ লস্কর যে একজন সম্মানিত ইসলাম ধর্মীয় নেতা, সে কথা উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, “তিনি গত ২৩ তারিখ সন্ধ্যায় কয়েকটি জনস্বার্থমূলক বিষয় নিয়ে আমার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমাদের মধ্যে একটি অর্থবহ আলোচনা হয় এবং আমি তাঁর উত্থাপিত বিষয়গুলিতে যথাসাধ্য সহযোগিতার আশ্বাস দিই।পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে আমি শিখেছি, সাহায্যের জন্য যিনি আমার কাছে আসেন, তাঁর ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয় নয় তাঁকে একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করাই আমার কর্তব্য। তিনি আমার অতিথি ছিলেন, তাঁকে অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না।”
তিনি অভিজিৎ পালকে প্রতিটি বিষয়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করতে অনুরোধ করেন। নির্বাচনের পর অভিজিৎ পাল যে মন্ত্রী করার জন্য তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন একে ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন উদ্যোগ বলে মন্তব্য জুড়ে বিধায়ক রায় আরও বলেন, “সেই সৌজন্য ও সদিচ্ছার জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং এটিকে আমি সম্মানের প্রতীক হিসেবেই ধারণ করব।”
শিলচরের বিধায়ক হিসেবে শুধু যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন তাঁদেরই নয়, যাঁরা তাঁকে ভোট দেননি তাঁদেরও সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন বলে অভিজিতকে মনে করিয়ে দেন রাজদীপ। তিনি লিখেছেন, “এমনকি যাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ আমার থেকে ভিন্ন, তাঁদের ন্যায্য দাবি ও জনস্বার্থের প্রশ্নেও আমি সবসময় পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।”
অভিজিৎ পালের উদ্দেশে তাঁর আরও অনুরোধ, রাজনীতিকে যেন অধিকারবোধ বা তুষ্টিকরণের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে না দেখেন। আজ দেশের মানুষ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক নীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে পরিচালিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করছে বলেও তিনি অভিজিতকে স্মরণ করিয়ে দেন।
সবশেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে রাজদীপ লিখেছেন, কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ক্রমশ সঙ্কুচিত হওয়া আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ কিনা, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।



