Barak UpdatesAnalyticsBreaking News

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাকে ব্রাত্য রেখে অসমিয়ায় ডিজিটাল লাইব্রেরি, প্রতিক্রিয়া

ওয়ে টু বরাক, ১১ সেপ্টেম্বর : ভাষার অধিকার রক্ষার দীর্ঘ আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং ভাষা শহিদের রক্তের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সম্প্রতি বাংলাকে ব্রাত্য রেখে অসমিয়া ভাষায় ‘AUS ডিজিটেল লাইব্ৰেৰী’ নামে ডিজিটাল লাইব্রেরির পোর্টাল চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে শিলচর তথা উপত্যকার বাঙালি সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের aus.idiskover.com ওয়েবসাইটে অসমিয়া ভাষায় ডিজিটাল লাইব্রেরির পেজটি সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বরাক উপত্যকার মানুষের আবেগ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বাংলাকে বাদ দিয়ে অসমিয়া ভাষার ব্যবহার কেন—এই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস। বিশেষ করে বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ১৯ মে ১৯৬১-এর ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ আজও এই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার সেই আন্দোলনে ১১ জন সত্যাগ্রহীর প্রাণ বিসর্জনের স্মৃতির সঙ্গে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বও যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া ভাষা ও সংস্কৃতির তেমন প্রত্যক্ষ উপস্থিতি না থাকার বিষয়টি আলোচিত। এমনকি প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া বিষয়ে পৃথক বিভাগ নেই। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ডিজিটাল পরিসরে হঠাৎ অসমিয়া ভাষার ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

একাংশের বক্তব্য, অসমিয়া ভাষার কোনও বিরোধিতা করার প্রশ্ন নয়; প্রশ্নটি ইতিহাস, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং ভাষাগত মর্যাদার। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের সঙ্গে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইটে কোনও ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বরাকের ভাষিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। অনেকের প্রশ্ন, ডিজিটাল লাইব্রেরির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ইংরেজি, হিন্দি ও অসমিয়া ভাষায় দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে বাংলা ভাষা নয় কেন?

বরাকের মানুষের আবেগের জায়গাটি আরও গভীর। যে মাটিতে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় মানুষ বুক পেতে দিয়েছিলেন, সেই মাটিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল দরজায় বাংলা ভাষার যথাযথ উপস্থিতি থাকবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা, বলছেন ক্ষুব্ধ অনেকেই। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker