Barak UpdatesHappeningsBreaking News
সর্বাঙ্গ বিকল শরীর ও সিস্টেম, ছয়মাস আগে লিখেছিলেন পার্থপ্রতিম মৈত্র

//পার্থপ্রতিম মৈত্র//
এখন শুধু বিছানায় শুয়ে “চোখ গেল,” “চোখ গেল” বলে চোখ গেল পাখির মত কুঁইকুঁই করে যাই। চোখের সামনে কালো ব্যান্ড আর বিভিন্ন প্যাটার্ন ফিরে আসছে, ২০১৬ এর মত। এতদিন বই ছিল আমার একমাত্র সঙ্গী। এখন আর পড়তেও পারিনা। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকি।
পেটে জল বাড়লে খেতে ইচ্ছে করে না। ডাই-ইউরেটিক দিয়ে জল বার করলে ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সব বেড়ে যাচ্ছে। না খেয়ে, খেয়ে, উঠে দাঁড়ালে হাত-পা কাঁপতে থাকে। মনে হয় কেউ না ধরলে পড়ে যাব। ডাক্তারবাবু বলেছেন রোজ হাঁটতে। কে আমাকে রোজ ধরে হাঁটাতে নিয়ে যাবে? এদিকে মাসল ক্র্যাম্প শুরু হয়ে গেছে। একটা স্টিক আর অ্যাবডোমিন্যাল বেল্ট কেনার কথা। কিন্তু টাকা কোথায়? ওষুধের টাকা খরচ করতে তো ইন্দ্রানীর মাইনে বেরিয়ে যাচ্ছে।
ভেবেছিলাম লিখে কাটিয়ে দেব। অনেক কষ্টে ভয়েস টাইপিং শিখেও নিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য কখনো একা আসে না। প্রথমে ল্যাপটপ দেহ রাখলো, তারপর ট্যাব আর এখন মোবাইল হ্যাং করে বসে থাকছে প্রতি দশ মিনিট অন্তর। একেই বোধ হয় মাল্টিপল অর্গান ফেইলার বলে। সারাদিন শুয়ে থাকি আর সিলিং দেখি।
ভাবছি অনেকের তো পুরানো ল্যাপটপ থাকে। ফেলে রাখেন, অথবা সেকেন্ড হিসাবে বিক্রি র প্রস্তুতি নেন। সেইরকম পুরনো ল্যাপটপের খোঁজ যদি কারো থাকে, ( পুরোনো আই থ্রি বা এএমডি,কোনও চয়েস নেই) । গুগল ফ্রি অ্যাপগুলি চললেই হলো। সন্ধান থাকলে একটু জানাবেন। কম দামে হলে অবশ্যই কিনে নেব। টাকা দিয়েই কিনবো। হাত পেতে টাকা নিলে জীবন আর জীবিকা দুইয়েরই সম্মানহানি হয়। শিখিয়েছিলেন আজীবনের সিপিএম, আসামের প্রবীর মৈত্র। তাই দাম বেশি হলে নিতে পারব না।
শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুক্তি শ্রমিকদের অবসরকালীন একলপ্তে তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। গত নির্বাচনে তিন বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষের ঘোষণা দিলেন। তবু গত তিন বছরে তিন পয়সাও পাইনি। তদবির করলে পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট তিন বছর ধরে বলে এসেছে ফাইল ওপরে গেছে। পরে শুনেছি অ্যাকাউন্টস এর হেড নিজে আমার ফাইল ইচ্ছাকৃত ভাবে আটকে রেখেছেন। অন্য ডিপার্টমেন্ট এর কারও কারও পরিবার কিন্তু মৃত্যুর পরে টাকাটা পেয়ে গিয়েছেন। আমিও এখন তার জন্য অপেক্ষা করছি।
অনেকেই আমার অসুস্থতার খবর শুনে টাকা ডোনেট করতে চেয়েছিলেন। অধিকাংশ সময় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থেকে আর পাঁচ দিন লিভার ফাউন্ডেশনের ইনডোর পেশেন্ট হয়ে, টাকা নেবার প্রয়োজন হয়নি। সুস্থ আমি হবোই। কিন্তু তাঁদের ইচ্ছেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। শুধু দয়া করে সস্তার ল্যাপটপ এর কথাটা মাথায় রাখবেন প্লিজ।
(বরাক উপত্যকার সুসন্তান পার্থ প্রতিম মৈত্র বৃহস্পতিবার প্রয়াত হলেন। গত বছরের ২৭ অক্টোবর উপরের লেখাটি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন।)


