India & World UpdatesHappeningsBreaking News
রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মানহানির মামলা খারিজ

ওয়েটুবরাক, ২৭ অক্টোবর: উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ আদালতে বেকসুর খালাস পেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মানহানির মামলায় সোমবার এই রায় দেয় আদালত। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে রাহুলকে খালাস করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। আদালতের সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁর সমর্থকরা। কংগ্রেসের তরফে প্রতিক্রিয়া, ‘সত্যেরই জয় হয়’।
২০১৮ সালের ৪ আগস্ট বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র এই মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ, ২০১৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেঙ্গালুরুতে একটি নির্বাচনী সভায় অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল।
মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে রাহুল গান্ধীর আইনজীবী স্বীকার করেন, কংগ্রেস নেতা ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে তাঁর যুক্তি ছিল, কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বা বিদ্বেষ থেকে মন্তব্যটি করা হয়নি। পাশাপাশি, বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে বলেও দাবি করেন রাহুলের কৌশুলী।
অন্যদিকে, অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতে রাহুল গান্ধীর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, রাহুল নিজেই মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেছেন। তাই তাঁকে দোষী ঘোষণা করা উচিত। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় সংরক্ষিত রাখে আদালত। সোমবার বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট শুভম বর্মা রাহুল গান্ধীকে বেকসুর খালাস করেন।
২০১৮ সালে মামলা দায়েরের পর একাধিক ধাপ পেরিয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রাহুল গান্ধী। পরে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৬ জুলাই তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। অভিযোগকারী এবং অন্য সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
২০২৬ সালের মার্চে রাহুলের কণ্ঠস্বরের নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছিল। মে মাসে নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে। পরে জেলা আদালত জুলাইয়ে এবং এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেপ্টেম্বরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দেয়।
মামলায় চূড়ান্ত সওয়াল-জবাব শুরু হয় ৬ অক্টোবর এবং শেষ হয় ১২ অক্টোবর। প্রথমে ১৩ অক্টোবর রায় ঘোষণার কথা থাকলেও পরে ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। সেই দিনই আদালতে হাজির হন রাহুল এবং খালাস পান তিনি।



