India & World UpdatesHappeningsBreaking News
রাত পোহালেই মহালয়া

ওয়েটুবরাক, ৯ অক্টোবর: মহান ও আলয় এই দুই শব্দের মিলনেই হয়েছে মহালয়া। আমরা বিশ্বাস করি, এই দিনে আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাঁরা যেহেতু আমাদের পূর্বপুরুষ, ফলে সবাই মহান। তাঁরা দীপাবলি পর্যন্ত এই পৃথিবীতে অর্থাত আমাদের আলয়ে কাটান। এই যে মহান-দের আমাদের আলয়ে আসার মুহূর্ত বা পৃথিবীটা মহান-দের আলয় হয়ে ওঠার মুহূর্ত, সেটিই মহালয়া। এর সঙ্গে চণ্ডীপাঠের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ দুর্গোতসব প্রচলনের বহু আগে থেকে পূর্বপুরুষদের পৃথিবীতে নেমে আসার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায়। তবে অমাবস্যা শেষে এ দিনটিই যেহেতু পিতৃপক্ষের শেষ এবং মাতৃপক্ষের শুরু, তাই চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী মহামায়াকে আবাহন করা হয়।
এই পক্ষকালে আমরা অনেককেই দীনদরিদ্রদের সাহায্য, পশুপক্ষীকে খাবার দিতে দেখি। এর কারণ প্রাচীন ভারতীয় চেতনায় মানুষ এই পৃথিবীতে এককভাবে বাঁচতে চায় না। পশুপক্ষী, পারিপার্শ্বিকতা নিয়েই মনুষ্যজীবন। তাই মহানদের উপস্থিতির দিনগুলিতে কেউ যেন দুঃখকষ্টে না কাটায়, সে জন্যই দানদক্ষিণা, অর্থাত মানুষ সকলের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়।
তাই মহালয়া মানে পূর্বপুরুষদের স্মরণ। সংযমের মধ্য দিয়ে ইন্দ্রিয় দমন এবং অন্তরের পশুভাব দূর করে, দেবভাব অর্থাত শুভচিন্তার জাগরণের জন্য প্রার্থনা, সকলের মঙ্গলের জন্য জগন্ময়ীর কাছে প্রণতি নিবেদন।



