India & World UpdatesHappeningsBreaking News
মেঘালয় হানিমুন হত্যাকাণ্ড: সোনমের জামিন বাতিল

ওয়েটুবরাক, ২৪ জুলাই: সোনম রঘুবংশীর জামিন বৃহস্পতিবার বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি পি বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ মেঘালয় সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে সোনমকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হলে তিনি নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক হলেও এই মামলায় সেই কারণ সম্পূর্ণ ভাবে জানানো হয়নি— এমনটা বলা যায় না। শীর্ষ আদালতের মতে, গ্রেফতারের কারণ একেবারেই না জানানো এবং নথিতে কিছু ত্রুটি বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। গ্রেফতারি নথিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারার পরিবর্তে ভুলবশত ৪০৩(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ত্রুটির ভিত্তিতেই নিম্ন আদালত সোনমকে জামিন দিয়েছিল এবং পরে হাই কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সোনম নিজেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেফতারের কারণ-সংক্রান্ত নথি গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। ফলে শুধুমাত্র এই টাইপগত ত্রুটির ভিত্তিতে জামিন দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, সোনমের আগের জামিনের আবেদনগুলি ইতিমধ্যেই গুণগত বিচারে খারিজ হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার বিচার শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পর্যায়ে জামিন বহাল থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মত শীর্ষ আদালতের।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে রাজা রঘুবংশী খুন হন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনম রঘুবংশী তাঁর সহযোগীদের নিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন এবং পরে রাজার দেহ একটি খাদে ফেলে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নিহত রাজা রঘুবংশীর পরিবার।
রাজার বাবা অশোক রঘুবংশী বলেন, সোনমের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। রাজার মা উমা রঘুবংশী বলেন, সোনমের জামিন বাতিল হওয়ায় তাঁদের পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। সোনম জামিনে মুক্ত থাকার সময়ে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলের হত্যাকারীর বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দেবে। রাজার দাদা বিপিন রঘুবংশী বলেন, জামিনে মুক্ত থাকলে সোনম প্রমাণ নষ্ট করতে বা মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারতেন। তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে মামলার শুনানি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।
