Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বিকল্প রেললাইনের কথা বলতে গিয়ে শিলচরে ধৃত ৪

ওয়েটুবরাক, ১২ জুলাই: চন্দ্রনাথপুর-লংকা দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণের দাবিতে আজ বেলা সাড়ে এগারোটায় শিলচর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শিলচর লামডিং ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক অজয় রায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে শুরুতে বলেন, চন্দ্রনাথপুর-লংকা দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণের দাবি শিলচর লামডিং ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে হাইলাকান্দিতে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রেল মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র প্রদান এবং দিল্লির যন্তরমন্তরে ধর্ণা প্রদর্শন করা হয়। ২০২২ সালে কেন্দ্র সরকার উক্ত লাইনের জরিপের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। কিন্তু সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশিত না হওয়ার দরুন পুনরায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে কমিটির পক্ষ থেকে মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিলচর গান্ধীবাগে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে এই দাবি পুনরায় জোরালো ভাবে উত্থাপিত হয়। তিনি বলেন, বরাক উপত্যকার জনগণের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বরাক উপত্যকার জনগণের পূর্ব তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রকল্পের ঘোষণা হয়েও তা দীর্ঘ বছর আটকে যায় নানা টালবাহানায় । শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ সম্প্রসারণের ঘোষণা ১৯৯৬ সালে হলেও ২০০৯ সালে প্রকল্পের কাজ মাত্র ২৯ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে বরাক উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের জনগণের উদ্যোগে ২০০৯ সালে গঠিত হয়েছিল শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩৬ দফা আন্দোলনের চাপে তদানীন্তন কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য হয় শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন করতে।
বিক্ষোভ চলাকালে বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিদাস দত্ত বলেন, এবার বর্ষাকাল শুরু হতেই ভূমি স্খলনের ফলে বার বার বন্ধ হয়েছে পাহাড় লাইনের রেলপথ। ফলে যাত্রীদের অকল্পনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখনও রেলপথ স্বাভাবিক হয়নি। তিনি বলেন, শুধু ভূমি ধ্বসে রেলপথ বন্ধ হচ্ছে বলেই দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণ করতে হবে বিষয়টি এমন নয়, বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরার রেলগাড়ির পাশাপাশি মিজোরাম, মণিপুর রাজ্যের রেল যখন একটিমাত্র রেল পথ দিয়ে যাবে তখন কার্যত ট্রাফিক সমস্যায় পড়তে হবে। এই সমস্যায় ঘন্টার পর ঘণ্টা রেল যাত্রীদের নষ্ট হবে। এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র সরকার ১৯৮৪ সালেই ভাবনা শুরু করে, কিন্তু অজানা কারণে এর বাস্তবায়ন হয়নি।
বক্তব্য রাখেন শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির কর্মকর্তা তথা শিলচর শহরের নাগরিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মলয় ভট্টাচার্য, প্রাক্তন পৌর কমিশনার অতনু ভট্টাচার্য, আদিমা মজুমদার, ফোরাম ফর স্যোশাল হারমনির পক্ষে অরিন্দম দেব, বিশিষ্ট সমাজকর্মী সীমান্ত ভট্টাচার্য, সুকল্পা দত্ত, অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক মৃণাল কান্তি সোম, করিমগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট সমাজকর্মী গোপাল পাল, তাপস ভট্টাচার্য প্রমুখ। বিক্ষোভ চলাকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী মানস দাস, ভবতোষ চক্রবর্তী, সুব্রত চন্দ্র নাথ, ফারুক লস্কর, এআইএমএসএস এর জেলা সম্পাদক দুলালী গাঙ্গুলী, কোরাস সাংস্কৃতিক সংস্থার বিশ্বজিৎ দাস, যুব সংগঠন এআইডিওয়াইও’র জেলা সম্পাদক পরিতোষ ভট্টাচার্য, ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র জেলা কমিটির সহ সভাপতি আপন লাল দাস, খাদেজা বেগম লস্কর, চাম্পা লাল দাস, বিজিত কুমার সিনহা, অঞ্জন কুমার চন্দ, দিলীপ নাথ প্রমুখ।
বিক্ষোভ শেষে উক্ত দাবিতে তৃতীয় স্মারকপত্র রেল মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শিলচর রেল স্টেশন সুপারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষ হওয়ার প্রাক মুহূর্তে রাজ্য পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা সৃষ্টি করে এবং জোর করে কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যাপক অজয় রায়, সীমান্ত ভট্টাচার্য, ভবতোষ চক্রবর্তী এবং খোদেজা বেগম লস্কর এই চারজন গ্রেফতার করে তারাপুর থানায় নিয়ে যায়।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট জনেরা। কমিটির পক্ষ থেকে সুব্রত চন্দ্র নাথ, অরিন্দম দেব, মানস দাস প্রমুখ পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের ছেড়ে দিতে আবেদন জানান। সংগ্রাম কমিটি পুলিশ আতিশয্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশ্ন তোলেন যে রেল স্টেশনে রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে কি? পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।


