India & World UpdatesHappeningsBreaking News
‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ থেকে সরিয়ে মুনতাসীর মামুনের কাছে বেতন-ভাতা ফেরত চাইল বিশ্ববিদ্যালয়

ওয়েটুবরাক, ২৬ অক্টোবর: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদ থেকে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী, লেখক, অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৩-এর ১৫ মার্চ থেকে তাঁর এই পদে থাকা খারিজ করার কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাতিলের সময় থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া বেতন ও ভাতাও মামুনকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
একাত্তরে পাকিস্তানের সহযোগী রাজাকার-আল বদরদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ায় মুনতাসীর মামুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন তিনি। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে নৈতিক লড়াই চালানোর কারণেই একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মামুনকে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ থেকে সরানো হল বলে মনে করছেন অনেকে। হেনস্থার উদ্দেশ্যেই তাঁকে বেতন ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
গত ১৯ অক্টোবর মামুনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। চিঠিতে মুনমুতাসীর মামুনকে বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নির্বাহী কমিটির সপ্তম সভায় দুই নম্বর সিদ্ধান্ত অনুসারে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে আপনার নিয়োগ ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ তারিখ থেকে বাতিল করা হল। এবং ওই তারিখের পরবর্তী সমুদয় অর্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত প্রদানের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হল।’ এই সিদ্ধান্ত গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর শামীম উদ্দিন খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে তাঁর নিয়োগ বাতিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়। কিন্তু কেন বাতিল করা হয়েছে এবং কত টাকা ফেরত দিতে হবে জানতে চাইলে শামীম কোনও মন্তব্য করেননি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উনি যে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, ঠিকমতো পালন করেননি।’
মুনতাসীর মামুন এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেন, ‘তিনি আবেদন করে এই সাম্মানিক পদটি পাননি। ২০২১ সালের ১৫ মার্চ সিন্ডিকেট তাঁকে এই পদে মনোনীত করে। এখন ব্যাকডেটে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে পুরনো বেতন ফেরত দিতে বলাটা যে তাঁকে হেনস্থা করার জন্য, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।’ ইতিমধ্যে মামুনের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।



