Barak UpdatesHappeningsBreaking News

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েও কাছাড়ের  ১৯ গ্রাম হস্তান্তরের চুক্তি বাতিলের দাবি 

শিলচরে জেলা বিভাজন বিরোধী মঞ্চের সভা

ওয়েটুবরাক, ২৬ অক্টোবর : কাছাড়ের কোনও গ্রাম ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শিলচর সফরকালে যে আশ্বাস দিয়েছেন কাছাড় বিভাজন বিরোধী মঞ্চ তাকে স্বাগত জানালেও যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ফলশ্রুতিতে কাছাড়ের ১৯ গ্রাম হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে তা বাতিলের দাবি ফের উত্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে গভীর শংকার সৃষ্টি হয়েছে। প্রজন্ম ধরে ওই গ্রামগুলিতে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজভূমে পরবাসী হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন। তাই এক্ষেত্রে ইতিমধ্যে যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

শনিবার শিলচর বঙ্গভবনে বিশিষ্ট লেখক গবেষক সঞ্জীব দেবলস্করের পৌরোহিত্যে মঞ্চের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই দাবি তোলা হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বৃহত্তর লক্ষীপুর-জয়পুর এলাকায় কাছাড়ের ১৯ গ্রাম হস্তান্তরের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে বিভিন্ন পর্যায়ে সভা আয়োজন এবং প্রচারপত্র বিলি করা হবে। সভায় স্পষ্টভাবে বলা হয় যে ১৯ গ্রাম কাছাড় থেকে ছেটে ডিমা হাসাও জেলায় হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেই সব গ্রামে অ-ডিমাসা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সভায় এই অভিমতও ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এই সংগ্রাম কোনভাবেই ডিমাসা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। কাছাড়ে বসবাসকারী ডিমাসা এবং অ-ডিমাসা জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রতিবেশীর সম্পর্ক রয়েছে এবং সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই বন্ধুত্বমূলক মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে আসছেন।

স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি সঞ্জীব দেবলস্কর প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, কাছাড় জেলার ১৯টি গ্রাম ডিমা হাসাও জেলায় হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে শিলচর বঙ্গভবনে আয়োজিত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের উপস্থিতিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত মর্মে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, বরাকের দুই মন্ত্রী কৌশিক রায় ও কৃষ্ণেন্দু পাল সহ সাংসদ, বিধায়ক এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে স্মারকপত্র পাঠানো হয়েছে। স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লক্ষীপুর সমজেলার যেসব গ্রাম ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে জুড়ে দেবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেই গ্রামগুলিতে ডিমাসা এবং অ-ডিমাসারা সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু এই অঞ্চলগুলিকে ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে জুড়ে দিলে নানাভাবে সামাজিক ও আর্থিক সমস্যা দেখা দেবে । ওইসব এলাকা ডিমা হাসাও জেলায় গেলে তা ষষ্ঠ তপশিলের অধীনে আসবে। এতে অ-ডিমাসা জনগণ ভূমি সহ অন্যান্য আর্থিক অধিকার হারাবেন। তাই বর্তমানে যে প্রশাসনিক কাঠামোয় কাছাড় জেলা রয়েছে তাতে কোনও ছেদ টানার চেষ্টা হলে তার সর্বাত্মক বিরোধিতা করা হবে।

বিশিষ্ট লেখক গবেষক আবিদ রাজা মজুমদার এদিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বহু মানুষ এখনও সমস্যা সম্পর্কে বুঝতে পারছেন না। এলাকাগুলি ষষ্ঠ তপশীলে চলে গেলে জমিজমা হস্তান্তর, রাজনীতি, যোগাযোগ সহ সর্বক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তাই তিনি সকল রাজনৈতিক দল সহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণের আবেদন জানান। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত মুখ্যমন্ত্রী কাছাড়ের কোনও গ্রাম হস্তান্তর হচ্ছে না বলে যে আশ্বাস দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এজন্য প্রাসঙ্গিকভাবেই ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কাছাড়ের গ্রাম হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সভায় আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন চা জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট নেতা ক্ষীরোদ কর্মকার, দশরথ গোয়ালা, প্রদীপ পাল, আলিম উদ্দিন, সুমন্ত ভট্টাচার্য, সুশান্তি রঞ্জন দাশ, গোপিকা দে, রণজিৎ দাস, দিলীপ কুমার পানিকা, সাধন পুরকায়স্থ, সাত্যকি দাস, রাণাজিৎ দাস  প্রমুখ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker