India & World UpdatesHappeningsBreaking News
ফের বাঙালি মহিলাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পুশব্যাক? হাইকোর্টের দ্বারস্থ পরিবার

১২ আগস্ট: ফের এক বাঙালি মহিলাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাকের’ অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে সেই মহিলাকে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। পরিবারের সঙ্গে একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
পরিবার সূত্রে দাবি, বাংলাদেশে পুশব্যাক করা এই মহিলার নাম সইদা ফকির। তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। সইদা উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী জুম্মান ফকির প্রায় ২০ বছর ধরে মুম্বইয়ে গাড়ির ক্লিনার হিসেবে কাজ করেন। সইদাও সেখানে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই বাজারে যাচ্ছিলেন সইদা। সেই সময় নবি মুম্বইয়ের পুলিশ সইদাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে স্থানীয় একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।
সইদার আটকের খবর পাওয়ার পর উদ্বেগে পড়ে যায় পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবার ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড সহ ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতে শুরু করে দেয়। পাশাপাশি পুলিশের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জন্য মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে পরিবার।
তবে এরই মধ্যে বড় বিপদ ঘটে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে তাঁরা জানতে পারেন যে নতুন মুম্বই পুলিশ সইদাকে অসম সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। বর্তমানে সইদা সীমান্তের ওপারে একটি গ্রামে রয়েছেন বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সইদাকে ফিরিয়ে আনতে আইনি লড়াইতে নেমেছে পরিবার। তাঁরা মানবাধিকার সংগঠন মাসুম-এর মাধ্যমে সইদার সমস্ত পরিচয়পত্র ও নথি কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত সইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘সইদা একজন ভারতীয় নাগরিক। প্রায় ২০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে মুম্বইয়ে বসবাস করছেন।’ এরপরই সরকারের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে সইদাকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে পরিবার। যদিও বর্তমানে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্ট ঠিক কী রায় দেয়। সইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা যায় কি না।
মাথায় রাখতে হবে, এর আগে সুনালী খাতুন নামক এক মহিলাকেই বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগ হঠে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ডিসেম্বর মাসে তিনি ফিরে আসেন নিজের মাতৃভূমিতে।
(সৌজন্য — আজতক বাংলা)

