Barak UpdatesHappeningsBreaking News
পাথারকান্দির মব লিঞ্চিঙের প্রতিবাদে সাড়ে চারটায় গোলদীঘির সামনে বিক্ষোভ
ওয়েটুবরাক, ৬ জুন: পাথারকান্দির মবলিঞ্চিংয়ের ঘটনার নিন্দায় সরব শিলচরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। দোষীদের সবাইকে গ্রেফতার করে কঠোরতর শাস্তির দাবি উঠেছে।
পাথারকান্দির এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার বিকাল ৪-৩০ মিনিটে , শিলচর গোলদিঘি মলের সম্মুখে গণবিক্ষোভে সামিল হওয়ার জন্য বেশ কিছু সংগঠন সম্মিলিত ভাবে অনুরোধ করেছেন।
ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমোনি, ইয়াসি, হিউম্যান সায়েন্স ফোরাম, শিলচর ক্যালচারেল ইউনিট, কোরাস, নারী মুক্তি সংস্থা, নান্দনিক, নাট্যাঙ্গণ, নবারুণ, ভাবীকাল, গণসুর, পূবালী, কায়ানট, নয়াগ্রুপ, বিনির্মাণ প্রভৃতি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, দুই গরিব দিনমজুর ভাই নিজেদের গৃহপালিত গরু খুঁজতে বেরিয়েছিল, তাদেরকে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে আধমরা করে দেওয়া হলো। বর্তমানে তাঁরা শিলচর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসায় রয়েছেন। ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ঘটনায় জড়িত মূল পাণ্ডাদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আর্থিকভাবে ও সামাজিকভাবে দুর্বল দিনমজুর আক্রান্তরা আর্থ-সামাজিক কারণেই আমাদের দেশের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হোন। সচেতন, গণতান্ত্রিক ও সংবেদনশীল জনগণের সামাজিক মতামতের চাপই তাদের ন্যায়বিচারকে সুনিশ্চিত করতে পারে। অন্যথায় যথারীতি এই অপরাধের বিচার ও সামাজিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অধরা থেকে যাবে। প্রশ্রয় পাবে মবলিঞ্চিংয়ের মত অপরাধের প্রবণতা।
বিভাজনের ও ভয়ের রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ক্রমাগত মানুষের মন-মস্তিষ্ককে অসংবেদনশীল করে তুলছে। পাথারকান্দির গণধোলাইয়ের এই ঘটনায় একজন শিক্ষকের নামও জড়িয়ে গেছে। লোহার রড দিয়ে আঘাত, এয়ারগান দিয়ে গুলি চালানো ও গণধোলাইয়ে মেরে ফেলার প্রবৃত্তি বিভৎস সামাজিক অসুখকে প্রকট করে। ধর্মীয় উন্মাদনা ও ঘৃণার মানসিকতা সামাজিক পরিসরকে বিষিয়ে তুলেছে, এখনই তাকে প্রতিহত করার গণ-উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় সামূহীক বিপর্যয়কে প্রতিহত করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।


