Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জগন্নাথ সিং কলেজে সৌন্দর্য ও গ্রুমিংয়ের ওপর দু-দিনের বিশেষ কর্মশালা

ওয়েটুবরাক, ২৬ ফেব্রুয়ারি: জগন্নাথ সিংহ কলেজের উইমেন্স সেল এবং লায়ন্স ক্লাব, শিলচরের যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টর’ শীর্ষক এক দু-দিনের বিশেষ কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতে উইমেন্স সেলের কো-অর্ডিনেটর সুস্মিতা মিত্র তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন, “সাজসজ্জা বা গ্রুমিং কেবল বাহ্যিক বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যম এবং বর্তমান সময়ে বিউটি সেক্টরে উদ্যোক্তা হওয়ার এক বিশাল সুযোগ রয়েছে।” তিনি ছাত্রীদের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি শিখে নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আরবান কালার লন্ডন’-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক প্রশিক্ষক মমতা ভট্টাচার্য। এছাড়াও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিউটিশিয়ান স্বস্তি ধর, সবিতা দাস এবং জুই ঘোষ । তাঁদের উপস্থিতিতে ছাত্রীরা বিশ্বমানের রূপচর্চা ও পেশাদারিত্বের পাঠ নেওয়ার সুযোগ পায়।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয় । স্কিন সায়েন্স, সঠিক ভাবে ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখার পদ্ধতি এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য ‘নো-মেকআপ লুক’-এর লাইভ ডেমো প্রদর্শন করা হয়। সবিতা দাস ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদার পোশাক-আশাকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিন, অ্যাডভান্স মেক আপ আর্টিস্ট্রি, কালার থিওরি, কনট্যুরিং এবং উৎসবের সাজের ওপর জোর দেওয়া হয়। স্বস্তি ধর ছাত্রীদের চোখের ও ঠোঁটের নিখুঁত মেকআপ কৌশল শেখান।
তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের শেষার্ধে ছিল হ্যান্ডস-অন’ বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পর্ব, যেখানে ছাত্রীরা সরাসরি প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নিজেরা সাজসজ্জার কৌশলগুলি অনুশীলন করার সুযোগ পায়।
ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পর্বে বিশিষ্ট বিউটিশিয়ান জুই ঘোষ একটি বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন। তিনি ছাত্রীদের ত্বকের যত্নে ‘ডি-ট্যানিং’ বা রোদে পোড়া ভাব দূর করার আধুনিক পদ্ধতিগুলি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের মধ্যে শংসাপত্র বিতরণ করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. সমরেন্দ্র সিং বলেন, “এই ধরণের কর্মশালা ছাত্রীদের কেবল গ্রুমিং শেখায় না, বরং ভবিষ্যতে বিউটি ইন্ডাস্ট্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাবে।”
অনুষ্ঠানে কলেজের উইমেন্স সেলের সদস্যা ড. বাসবী পাল, অনিতা সিংহ, ড. নন্দিতা দাস, ড. গীতশ্রী দেব, ড. সুস্মিতা পাল, ড. নিবেদিতা মুখার্জি শর্মা এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ড. এস. কে. চতুর্বেদী, ড. দিলীপ ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন।



