Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শেষদিনে মনোনয়ন পেশ কংগ্রেস, বিজেপি প্রার্থীদের, সঙ্গে তৃণমূল-নির্দলও

ওয়েটুবরাক, ২৩ মার্চঃ আজ শেষদিনে কংগ্রেস-বিজেপির মতো বড়গুলি যেমন শক্তি প্রদর্শন করে মনোনয়ন পত্র জমা করেছে, তেমনি মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বেশ কয়েকজন নির্দল প্রার্থীও। বিজেপি ডিএসএ মাঠে জমায়েত হয়ে শোভাযাত্রা বের করে। দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে সেই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন প্রদেশ সভাপতি, সাংসদ দিলীপ শইকিয়া। ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, বর্তমান ও প্রাক্তন জেলা সভাপতিগণ। তাতে সামিল ছিলেন জোটশরিক অগপ প্রার্থী করিমউদ্দিন বড়ভুইয়াও।
একইভাবে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শহর পরিক্রমা করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান কংগ্রেস প্রার্থীরা। হাত চিহ্নশোভিত পতাকার ফাঁকে ফাঁকেই দেখা গিয়েছে লালঝান্ডা। মিছিলে পা মিলিয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক দুলাল মিত্রও।
সাংসদ সুস্মিতা দেব উধারবন্দ, কাটিগড়া ও সোনাই আসনের তৃণমূল প্রার্থীদের নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। বেরিয়ে জানান, এই তিন আসনে বিজেপির সঙ্গে তাঁদেরই লড়াই হবে। তাঁর কথায়, কংগ্রেসিরা সব বিজেপি হয়ে যাচ্ছে। ফলে গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইর মতো দল একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই।
উধারবন্দ আসনে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছেন এই উপত্যকার কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ মিঠুন নাথ। বিজেপিকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, এই দলটির এখন আর নীতি-আদর্শ বলে কিছু নেই। কংগ্রেস থেকে দলত্যাগ করে এসেই বিজেপির টিকিট লাভ করছেন। অন্যদিকে, বছরের পর বছর ধরে দল করে আসা নেতা-কর্মীরা আজ জায়গা পাচ্ছেন না। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এই আসনের অন্যান্য বিজেপি টিকিট প্রত্যাশীরাও। তাঁরা অবশ্য এরই মধ্যে একযোগে বিজেপির প্রাখমিক সদস্য পদে ইস্তফা দিয়েছেন।
জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী শিলচরের কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিত পাল। তিনি বলেন, জনগণ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। ফলে তিনি মনে করছেন, বিজেপির সঙ্গে সেভাবে লড়াইই হবে না।
তৃতীয়বার রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হবে বলে দাবি করলেন লক্ষীপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য কৌশিক রায়। জনস্রোতেই জয়ের ব্যাপারে প্রচণ্ড আশাবাদী শিলচরের বিজেপি প্রা্র্থী রাজদীপ রায়। তাঁর দাবি, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা-ভরসা রয়েছে বিজেপির নীতি-নেতা ও সদিচ্ছার ওপর। একই বক্তব্য, বড়খলার বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর নাথের। তিনি বলেন, কয়েকজনকে নিয়ে এসে মনোনয়ন জমা করবেন, এমনটাই ভাবছিলেন, কিন্তু আজ দেখলেন হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত। তাঁরাও সঙ্গে যাবেন। একে ভালবাসা এবং শুভ সংকেত বলে মন্তব্য করলেন কিশোর নাথ।
দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখে আনন্দিত কাটিগড়ার বিজেপি প্রা্র্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থও। এর আগে তিনবার প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিধায়ক হলেও প্রতিবার লড়েছেন উত্তর করিমগঞ্জ আসনে। এ বার দল বদলের সঙ্গে বদলেছেন আসন, এমনকী জেলাও। ওগুলিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন না কমলাক্ষ। তাঁর কথায়, মনোনয়ন পত্র জমার সময় এমন জনস্রোত আগে আর কখনও দেখেননি তিনি।
কাটিগড়ায় এবার কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন। কমলাক্ষের মতোই দলবদলের চিত্র। জয়ের ব্যাপারে অমরচাঁদও আশাবাদী। তিনি যুক্তি, উন্নয়নের প্রশ্নেই মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন।
সোনাই আসনের অগপ প্রার্থী বিধায়ক করিমউদ্দিন বড়ভুইয়া তাঁর পুরনো দল ইউডিএফ বা কংগ্রেসকে হিসেবেই রাখতে নারাজ। তাঁর উক্তি, এখানে একদিকে জনতা, অন্যদিকে একজন ব্যক্তি। ফলে তিনি আগের বার ইউডিএফ প্রার্থী হিসেবে যত ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন, এবার তা বেড়ে তিনগুণ হবে বলে দাবি করেন।
ধলাই আসনের বিজেপি প্রার্থী অমিয়কান্তি দাস প্রথমবার নির্বাচনে লড়লেও তিনি পুরনো বিধায়কদের কাজের সুফলেই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন। বলেন, বিজেপি আমলে এত কাজ হয়েছে ধলাইতে, মানুষ পদ্মচিহ্নেই বোতাম টিপবেন।


