NE UpdatesHappeningsBreaking News

উত্তর-পূর্ব জুড়ে বন্যার দাপট

ওয়েটুবরাক, ২ জুনঃ অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত। অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায়। এ পর্যন্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্যসমূহে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রচুর ঘরবাড়ি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। স্থানে স্থানে মানুষ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। অরুণাচল প্রদেশের বোমজির নদীতে আটকে পড়া ১৪জনকে উদ্ধার করে এনেছেন বিমানবাহিনীর জওয়ানরা। অসমেও ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে বিমানবাহিনী নামানো হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলে দিয়েছেন। অরুণাচল প্রদেশ সীমানার বাসিন্দাদেরও বলেছেন, সে রাজ্যের নদীগুলিতে জল আরও অনেকটা বাড়তে পারে। তাই সাবধানে থাকতে হবে। বরাক উপত্যকার তিন জেলাতেই যে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সে কথা উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

মেঘালয় সরকার জানিয়েছে, এই দফার বন্যায় মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তবে রবিবার নতুন করে কোনও প্রাণহানির খবর নেই।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েই তাঁরা কাজে নেমে পড়েন। বিশেষ করে, অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার দিবাং ভ্যালিতে বোমজির নদীতে আটকে পড়া ১৪জনকে উদ্ধারে দ্রুত উদ্যোগ নেন। বিমানবাহিনীর এমআই ১৭ হেলিকপ্টার নিয়ে তাঁদের তুলে আনা হয়। ১৪জনের মধ্যে ১৩জনই অসমের তিনসুকিয়া জেলার বাসিন্দা। একজন অরুণাচল প্রদেশের। সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশ সরকার গত ৪৮ঘণ্টায় ভূমিধসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের সকলের পরিবারে চার লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে। এই রাজ্যটিতে দুই মহিলা, দুই শিশু সহ মোট নয়জন অতিবর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন পূর্ব কামেঙ জেলার, বাকি দুইজন নিম্ন সুবনসিড়ির বাসিন্দা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker