Barak UpdatesAnalytics

বরাকভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের রজত জয়ন্তী বর্ষের সূচনা ১৩ মে

সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিকেলে থ্যালাসেমিয়া রোগ ও তার প্রতিরোধের উপায় নিয়ে সেমিনার

ওয়ে টু বরাক, ১২ মে : ভারতবর্ষে স্বেচ্ছা রক্তদান আন্দোলন শুরু হয়েছিল তৎকালীন বোম্বাই নগরীতে, ১৯৫৭ সালে। টাটা কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পুত্র ভয়ানক বাইক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েক বোতল রক্তের প্রয়োজন হয়। সেই সময় প্রায় কেউই রক্তদান করতে এগিয়ে আসতে চাইছিলেন না। রক্তবিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক শিক্ষিত মানুষও ছিলেন অন্ধকারে। সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুবকের মা তখন আক্ষরিক অর্থে পরিচিতজনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়িয়েছিলেন ছেলের জন্য রক্তদানের আবেদন নিয়ে। প্রায় এক মাস কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি শেষ পর্যন্ত কিছু রক্ত জোগাড় করে ছেলের প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

কয়েক হাজার কর্মচারী থাকা টাটার মত এক বিখ্যাত কোম্পানির উচ্চপদে আসীন অফিসারের স্ত্রী হয়েও রক্ত জোগাড় করতে যে পরিশ্রম তাঁকে করতে হয়েছিল, তাতে তিনি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, এ দেশে স্বেচ্ছা রক্তদান আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষ কী অপরিসীম দুর্গতির সম্মুখীন হবেন। ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে এনেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন রক্তবিজ্ঞানের প্রসারের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষিত করে স্বেচ্ছা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজে। তিনিই ভারতবর্ষে রক্তদান আন্দোলনের পথিকৃৎ পদ্মশ্রী লীলা মুলগাঁওকার। টাটাদের উদ্যোগেই এর পর রক্তদান আন্দোলন ধীরে ধীরে জামশেদপুর, দিল্লি, কলকাতা প্রভৃতি নগরে প্রসারিত হতে থাকে। সেই আন্দোলনের ঢেউ এই বরাক উপত্যকায় এসে পৌছতে পৌছতে লেগে যায় প্রায় ৪৫ বছর।

২০০২ সালে শিলচরে গঠিত হয় বরাকভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম। গুটি গুটি পায়ে সংগঠিত রক্তদান আন্দোলনের সেই সংগঠন আজ রৌপ্য জয়ন্তীর দোরগোড়ায় এসে পৌছেছে। রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের প্রথম অনুষ্ঠান হিসেবে আগামী ১৩ মে তারিখে, সকাল ৮ টায় আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডি এস এ) মাঠের সামনে জমায়েত হয়ে শোভাযাত্রা শুরু হবে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হবে। যে নেতাজি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো” — সেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে সমাপ্ত হবে এই রক্তের জন্য পথ চলা। বিগত ২৫ বছরে অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষকে সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে এই ফোরাম, তার ধারাবাহিক রক্তদানের মাধ্যমে। আমরা নিজেরাও জানি না, কোন মুহূর্তে আমাদেরও রক্তের প্রয়োজন হতে পারে রোগমুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার জন্য। তাই, ব্যাপক মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে রক্তদানে উৎসাহিত করার দায়িত্ব শুধু ফোরামের একার নয়, এ আন্দোলন আমাদের সবার।

এ দিনই অর্থাৎ ১৩ মে, বুধবার বিকাল ৩ টায় স্থানীয় রাজীব ভবনের তিন তলার কনফারেন্স হলে থ্যালাসেমিয়া রোগ ও তার প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন হায়দরাবাদ থ্যালাসেমিয়া ও সিক্‌ল সেল সোসাইটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত আগরওয়াল। মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। এছাড়াও বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে থাকবেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সুজিত কুমার নন্দী পুরকায়স্থ, ডাঃ অঞ্জন পাল, ডাঃ সঞ্জীব দেবনাথ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মহাবীর জৈন। শিলচর তথা বরাক উপত্যকার প্রতিজন সচেতন নাগরিকের প্রতি ফোরামের আবেদন, অনাগত বিপদের কথা মাথায় রেখে, আগামী ১৩ তারিখের দুই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বরাক উপত্যকায় রক্তদান আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, এই সহায়তা পরোক্ষে আমাদের নিজেদেরই সহায়তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker