India & World UpdatesHappeningsBreaking News
এনআরসি : আরতিরা স্বামীর ঘরে ফিরতে পারছেন না, আজ মমতার মিছিল

ওয়েটুবরাক, ১৬ জুলাই : এনআরসিতে নাম না ওঠায় স্বামীর ঘর থেকে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছেন কোচবিহারের তুফানগঞ্জের আরতি ঘোষ, ছয় বছরেও আর ফিরতে পারেননি। এখন মাঝেমধ্যে বরপেটায় স্বামীর ঘরে এলেও বেশিদিন থাকতে পারেন না। এনআরসি নামে এক অজানা আতঙ্ক ঘিরে ধরে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাভাষীদের নিয়ে ঘোষণা সেই দুশ্চিন্তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘অসমের কোনও বাসিন্দা জনগণনার নথিতে মাতৃভাষা বাংলা লিখলে বোঝা যাবে রাজ্যে কতজন বিদেশি (বাংলাদেশি) বসবাস করছে।’ সেই সঙ্গে দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীর কাছে এসেছে অসম সরকারের পাঠানো এনআরসি নোটিস। এই অবস্থায় আরতিদেবী বলছেন, ‘তাহলে কি বাংলা ভাষায় কথা বলাই কাল হল? আর কোনওদিন কি স্বামীর ঘরে ফিরতে পারব না!’
তিনি অবশ্য একা নন। সম্পর্কে তাঁর জা, আলিপুরদুয়ারের এক মহিলার ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমনটাই। এরকম আরও উদাহরণ রয়েছে।
এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা সহ একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তা চলছে। এমনকী, স্রেফ বাংলায় কথা বলার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা সেঁটে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনাও ঘটেছে। দেশজুড়ে এই প্রবণতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের এই অপমানের প্রতিবাদে তাই পথে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বুধবার বেলা ১টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এ দিনই বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলায় জেলায় হবে প্রতিবাদ মিছিল। প্রতিবাদ সংগঠিত হবে দেশের রাজধানীতেও।
আরতিদেবীর ঘটনাটি রবিবার সামনে আনেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিবেশী রাজ্যে বিয়ে করা কি অপরাধ? বাঙালি বিরোধী অসম সরকার আরতি ঘোষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাঁকে। এর সম্পূর্ণ দায় অসমের বিজেপি পরিচালিত সরকারের।’
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওড়িশা, মুম্বই, অসম, দিল্লি সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই নেমে আসছে অমানবিক অত্যাচার। তাই বাংলার অস্মিতা রক্ষায় বুধবার প্রতিবাদ মিছিল করছি আমরা। নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।’
এর আগে আরতিদেবীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। খোঁজখবর নিয়েছেন মন্ত্রী উদয়ন গুহও।



