Barak UpdatesIndia & World UpdatesHappeningsBreaking News
নিষ্ঠা থেকে রজনীকান্ত, সকলের কাছে রবিশঙ্কর এক আশ্চর্য!

উত্তম কুমার সাহা ও পান্নালাল ভট্টাচার্য
বেঙ্গালুরু, ১৩ মে : আধ্যাত্মিক সাধনা কি সমাজসেবায়, শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর আজ বিশ্বখ্যাত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আর্ট অব লিভিং চাপমুক্ত, হিংসামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। রবিশঙ্কর ও তাঁর আর্ট অব লিভিং মানুষকে শুধু ঈশ্বরমুখি নয়, আত্মসচেতনও করে তুলেছেন। তাই শ্রীশ্রীর ৭০-তম জন্মদিন এবং আর্ট অব লিভিঙের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ সমবেত হয়েছেন বেঙ্গালুরুর আশ্রমে। চলছে গুরুদক্ষিণা। তাঁকে শ্রদ্ধাভরা শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা এসে জড়ো হচ্ছেন ।
কাল দর্শনার্থীদের তালিকায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতীন গাডকারী, বিশিষ্ট অভিনেতা রজনীকান্তও। আজ আসেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। জন্মদিনের বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানে তিনি সারাক্ষণ শ্রীশ্রীর পায়ের কাছেই বসে থাকলেন। যজ্ঞশেষে শ্রীশ্রী ভক্তদের উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন। কিন্তু কয়জনের উপহার আর নিজের হাতে নেওয়া সম্ভব! সারাদিন যে জনস্রোত বয়ে চলেছে।
কীসের আকর্ষণে মানুষ এভাবে ছুটে আসছেন, সৎসঙ্গে কাল জবাব দিয়েছেন রজনীকান্ত। তিনি শোনান, একবার আশ্রমে এসে ১৫ দিন থেকেছিলেন। শুরুর দিকে ঘরবন্দিই থাকতেন। কিন্তু তাঁর মন চাইত, চারদিকে সবুজ ঘেরা পরিবেশ, ছোটবড় হ্রদ, গোশালায় শতশত গরু, রয়েছে হাতি-ঘোড়া— সেসব ঘুরে দেখতে। কিন্তু তিনি ঘুরতে বের হলে যে আশ্রমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হবে! কেউ ফোটো তুলতে চাইবেন, কেউ খুঁজবেন অটোগ্রাফ। কথাটা শুনেই শ্রীশ্রী বললেন, তুমি যেখানে খুশি যাও, আশ্রমের ভেতরে কেউ তোমার দিকে তাকাবেও না। রজনীকান্ত বললেন, আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম, গুরুদেবের কথা মেনে বেরিয়ে পড়লাম, কিন্তু ছবি তোলা বা অটোগ্রাফ তো দূরের কথা, একজন মানুষও আমার দিকে তাকায়নি বা কথা বলেনি। আমি হাত নাড়ছিলাম, কেউ দেখেনি। এই অভিজ্ঞতা সেদিন আমার অহংকার ভেঙে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, আধ্যাত্মিক শক্তির সামনে তারকাখ্যাতি কিছুই নয়।
আজ জন্মদিনে আশ্রম জুড়ে শ্রীশ্রীর আধ্যাত্মিক শক্তির এমন বহু কাহিনি শোনা গেল। সদ্য এমবিএর চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছেন নিষ্ঠা পোখলে, বললেন, কৈশোরে আমি ওইসব বিশ্বাস করতাম না। মা জোর করেই আশ্রমে নিয়ে যেতেন। সেখানে গল্প শুনতাম, গুরুদেব না জেনেই অনেকের নাম বলে দিতে পারেন। একদিন আমি গুরুদেবের এক অনুষ্ঠানে মনে মনে চ্যালেঞ্জ জানাই, আজ আমার নাম বলুন তো দেখি। সেদিন আমার চোখ খুলে গেল। গুরুদেব তিনবার আমার নাম নিলেন।
আজকের সৎসঙ্গে দক্ষিণী তারকা মোহন বাবু বললেন, রজনীকান্ত একদিন ফোন করে তাঁকে এই আশ্রমে আসতে বলেন। একেবারেই আগ্রহ ছিল না। কিন্তু রজনীকান্তের পীড়াপীড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে প্রথমবার আশ্রমে আসেন। মনে মনে স্থির করে আসেন, হাতজোড় করেই গুরুদেবকে প্রণাম করবেন। কিন্তু যখন রজনীকান্ত পরিচয় করিয়ে দিলেন, নিজের অজান্তেই সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি। সেদিন শ্রীশ্রীর আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পাই।
এমন আরও কত ঘটনা যে কতজন শোনালেন!



