Barak UpdatesHappeningsBreaking News
মেয়রের চেয়ারের দিকে তাকিয়ে পুর ভোটের টিকিটের লাইনে হেভিওয়েটরা

ওয়েটুবরাক, ৪ সেপ্টেম্বর: পুর নিগমের মেয়র কে হবেন, এর উপর অনেকাংশে নির্ভর করে কোনও অঞ্চলের উন্নয়ন কতটা হবে, কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করবেন পুর নাগরিকরা। তাই নিগম নির্বাচনে ভোট দেওয়া অনেকটাই মেয়রকেন্দ্রিক। কিন্তু শিলচর পুর নিগমের প্রথম ভোটে কোনও রাজনৈতিক দল মেয়র পদপ্রার্থী বা ভোটের মুখ হিসেবে কাউকে তুলে ধরতে চাইছে না। শাসকদল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আশঙ্কায় ওই পথে হাঁটতে চায়নি। কংগ্রেস বা বিরোধীদের কাছে একে নিজেদের পক্ষে একটা সুযোগ হিসেবে দেখার এবং একে কাজে লাগানোর একটা অবকাশ ছিল। কিন্তু ওই ধরনের চমকে দেওয়ার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়তো খুঁজে পাননি তাঁরা। সর্বস্তরে ব্যাপক জনসংযোগ না থাকলে অবশ্য বিরোধী দলের পক্ষে এই কাজ কঠিনই ঠেকে।
তবে বিজেপিতে মেয়র হওয়ার বহু দাবিদার। বলা যায়, দুয়েকজন পুর নির্বাচনের টিকিট চাইছেন শুধুই মেয়রের চেয়ারের দিকে চোখ রেখে। এর মধ্যে উল্লেখ করতে হয় প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী ও বিজেপির ট্রেডারস সেলের প্রদেশ সভাপতি বিবেক পোদ্দারের কথা। কমিশনার তো নয়ই, কর্পোরেটর হওয়ার জন্যও তাঁদের আসার কথা ছিল না। কিন্তু কর্পোরেটর না হলে যে মেয়র হওয়া সম্ভব নয়। তাই এই পর্যায়েও তাঁদের টিকিটের জন্য ঘাম ঝরাতে হচ্ছে।
দীপায়ন অনুরাগীদের দাবি, “রাজুদা বিধায়ক থাকার সুবাদে পুর নিগম পরিচালনার বহু কাজ হাতেকলমে করে গিয়েছেন। তিনি যে পরিকল্পনা মাফিক শিলচরকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে তা বিঘ্নিত হলেও এবার মেয়র মনোনীত হলে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবেন।” তাঁদের দাবি, সমস্যাগুলোর গভীরে গিয়ে এর মূল শেকড়টাকে উৎপাটনের মানসিকতায় কাজ করার মতো একটি মানুষই রয়েছেন। তিনি হলেন দীপায়ন চক্রবর্তী। তাঁর কারণেই শিলচরে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখা সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে, রাস্তার পরিসর বেড়েছে। শিলচর শহরের মানুষ যে ফুটপাতে চলাফেরা করতে পারেন, এও তাঁর কাজের সুবাদে। তিনি মেয়র হলে ওইসব পরিকল্পনার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।
অন্যদিকে, বিবেক পোদ্দারের দাবি, শহর বা নগর এগোতে পারে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে। নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের সুবাদে আত্মবিশ্বাসী যে, শিলচর পুর নিগমকে নেতৃত্ব প্রদানে তিনি সক্ষম হবেন।
স্পষ্টভাবে মুখ না খুললেও মেয়রের দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন হেমাঙ্গ শেখর দাস, অভ্রজিৎ চক্রবর্তী ওরফে ঝলকও। হেমাঙ্গশেখর দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে চলেছেন। বহুবার টিকিটের দাবি জানালেও বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু দলের প্রতি অভিমান না করে ফের কাজে ঝাঁপিয়েছেন। ঝলক নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুরের সভাপতিত্বের পুরসভায় কমিশনার ছিলেন। সে সময় পুরসভা ও সংগঠনের সমন্বয়ের গুরুদায়িত্ব পালন করেন অভ্রজিৎ চক্রবর্তী ও রাজেশ দাস। তা করতে গিয়ে পুর এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ঝলক যেমন অবগত, তেমনি সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যাপারেও বেশ সড়গড়।
কিন্তু এখন বড় প্রশ্ন, মেয়রের দাবিদারদের সকলে কর্পোরেটর হওয়ার টিকিট পাবেন তো? ওই চৌকাঠ ডিঙানোর পরই না আসবে ভোটে জেতা আর মেয়র হওয়ার খেলায় অংশ নেওয়া! এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী কৌশিক রাই এবং বর্তমান দুই স্থানীয় বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায় ও রাজদীপ গোয়ালার ভূমিকাও লক্ষণীয়।


