Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শ্রীঅরবিন্দের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীতে শিলচরে শ্রীঅরবিন্দ কেন্দ্রের উদ্বোধন

ওয়েটুবরাক, ১৭ আগস্ট : শ্রীঅরবিন্দের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীতে ‘শ্রীঅরবিন্দ ট্রাস্ট শিলচর’-এর উদ্যোগে শিলচরের চার্চ রোড, অম্বিকাপট্টিতে নবনির্মিত ‘শ্রীঅরবিন্দ কেন্দ্র’-এর উদ্বোধন হয়। অতিথি বরণ, ফিতা কাটা, মিষ্টিমুখ এসব নয়। ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ‘শ্রীঅরবিন্দ গায়ত্রী মন্ত্র’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। পরে সম্পূর্ণ নীরবতার মধ্যে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, সমবেত ধ্যান, ‘সাবিত্রী’ পাঠ এবং শ্রীমার সংগীত পরিবেশিত হয়। সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন সুনয়না দাস ও দেবলীনা চৌধুরী। তবলায় ছিলেন পান্নালাল গুপ্ত।
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পতাকা উত্তোলন ও ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয়। আরাধনা সংগীতের পর সভাপতি মহামায়া দেব, সম্পাদক ড. প্রদীপ্ত দাস ও ট্রাস্টি সদস্য শাশ্বতী রায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে ড. বিশ্বজিৎ সাহু ‘শ্রীঅরবিন্দ ইজ দ্য ট্রু সলিউশন’ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানুষের জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও তার সমাধানের জন্য শ্রী অরবিন্দকে পড়তে আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, শ্রীঅরবিন্দ দর্শনে মোটামুটি মানব জীবনের সকল সমস্যার সহজ সমাধান উপলব্ধ আছে।

প্রফেসর নির্মালি বর্মন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রীঅরবিন্দের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ শ্রীঅরবিন্দকে শুধু একজন বিপ্লবী বলে চেনে, কিন্তু তাঁর সাধনার কথা তেমন চর্চা হয় না। তিনি শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগের আরও অনুশীলনের কথা ও শ্রীমার্ বাণী সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মানবেন্দ্র দত্ত চৌধুরী ‘সমর্পণ’ বিষয়ে মনোমুগ্ধকর বক্তব্য রাখেন। তিনি খুব সহজ ভাবে মহাভারতের ঘটনা, শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের উপাখ্যান দিয়ে পূর্ণ সমর্পণ বিষয় সবার কাছে তুলে ধরেন।

বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে ছিল পরমজ্যোতি দাসের বাঁশিবাদন ও সোনিপ্রিয়া ভার্মার কণ্ঠে শ্রীমার ভজন পরিবেশনা। শ্রীমার সংগীত পরিবেশন করেন শ্রীমতী দেবলীনা চৌধুরী ও কুমারী নমানশী পাটোয়া। তারপর শ্রীঅরবিন্দ ভবন গুয়াহাটি থেকে আগত ইন্দ্রজিৎ গোস্বামী শ্রীঅরবিন্দের লেখা ‘সাবিত্রী’ মহাকাব্য থেকে নানান পংক্তি পাঠ করেন এবং সেগুলো সহজ ভাবে বিশ্লেষণ করেন। সুদীপ দত্ত শ্রীঅরবিন্দের কবিতা আবৃত্তি করেন।
সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে স্মারকগ্রন্থ ‘অভ্যুদয়’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটে। বিশিষ্ট অতিথি ও ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

এরপর উপস্থিত সকলের সম্মিলিত কণ্ঠে বন্দেমাতরম্ পরিবেশন, শ্রীমার ধ্যান, আশীর্বাদ ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। বিকেলের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তমাল চক্রবর্তী ও সুপর্ণা পাটোয়া। সকালের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন নিশিকান্ত পাটোয়া।
দুই দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ‘বন্ডেজ অ্যান্ড ফ্রিডম— ইন দ্য লাইট অব শ্রীঅরবিন্দ অ্যান্ড দ্য মাদার’ শীর্ষক একটি বিশেষ ছাত্র কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ১৩ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমার দর্শনের আলোকে বন্ধন ও স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে ভাবতে ও আলোচনা করতে উৎসাহিত করা হয়। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও মানসিক বন্ধন অতিক্রম করে কীভাবে অন্তর্নিহিত স্বাধীনতা, আত্মজ্ঞান এবং উচ্চতর চেতনার দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়—এই বিষয়গুলি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা ও চিন্তনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
শ্রীঅরবিন্দ ট্রাস্ট শিলচরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শ্রীঅরবিন্দ কেন্দ্র’ আগামী দিনে ধ্যান, পাঠচক্র, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছাত্র-যুব কার্যক্রম এবং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমার মানব ঐক্য, চেতনার বিবর্তন এবং একটি উন্নততর মানবসমাজ গঠনের ভাবনাকে বৃহত্তর সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

