India & World UpdatesAnalyticsBreaking News
বিজেপির জাতীয় সংগঠনে বড় রদবদল, ১৩ সহ-সভাপতি, ৮ সাধারণ সম্পাদক ও ১৬ সচিব
এলেন বসুন্ধরা-স্মৃতি, সংগঠনে রয়েছেন অসম-ত্রিপুরা-নাগাল্যান্ডের প্রতিনিধিও

নতুনদিল্লি, ১৭ আগস্ট : বিজেপির জাতীয় সংগঠনে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। জাতীয় স্তরে ১৩ জনকে সহ-সভাপতি, ৮ জনকে সাধারণ সম্পাদক এবং ১৬ জনকে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিজেপির জাতীয় সংগঠনে একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন মহিলা নেত্রীরা। নিতিন নবীনের টিমে মোট ১২ জন মহিলা রয়েছেন। জাতীয় নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহিলা নেতৃত্বকেও সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে রাজস্থান থেকে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ডি. পুরন্দেশ্বরী, উত্তরপ্রদেশ থেকে রেখা বর্মা, গুজরাট থেকে বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই দোশি, মহারাষ্ট্র থেকে ড. ভারতী প্রবীণ পাওয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ড. মধুছন্দা কর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ দিয়েছে বিজেপি। রাজস্থানে অনামী ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করার পরই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে বসুন্ধরার দূরত্ব বেড়েছে বলে জল্পনা ছড়ায়। কিন্তু তাঁকে আবারও দলে ফিরিয়ে আনা হল গুরুত্বপূর্ণ পদে।
সহ-সভাপতি পদে পুরুষ নেতাদের মধ্যে উত্তরাখণ্ড থেকে তীরথ সিং রাওয়াত, দিল্লি থেকে রাম মাধব, ওড়িশা থেকে বৈজয়ন্ত পাণ্ডা, উত্তরপ্রদেশ থেকে অধ্যাপক তারিক মনসুর, পাঞ্জাব থেকে মনপ্রীত সিং বাদল, মধ্যপ্রদেশ থেকে লাল সিং আর্য এবং কর্নাটক থেকে অধ্যাপক এম. নাগরাজাও জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন।
জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মহারাষ্ট্র থেকে বিনোদ তাওড়ে, দিল্লি থেকে সুনীল বনসল, ত্রিপুরা থেকে বিপ্লব কুমার দেব, উত্তরপ্রদেশ থেকে স্মৃতি ইরানি ও হরিশ দ্বিবেদী, রাজস্থান থেকে সতীশ পুনিয়া, মধ্যপ্রদেশ থেকে গজেন্দ্র প্যাটেল এবং হরিয়ানা থেকে সঞ্জয় ভাটিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অমেথিতে রাহুল গান্ধীর কাছে হারের পর রাজনীতি থেকে বেশ দূরে চলে গিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। ফিরে যান অভিনয় পেশায়। জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘কিঁউ কি সাস ভি কভি বহু থি’তে দেখা যায় তাঁকে। নীতিনের টিমে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় সচিব হিসেবে ১৬ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ থেকে কবিতা পাতিদার, কেরল থেকে কে. সুরেন্দ্রন ও অনিল অ্যান্টনি, উত্তরপ্রদেশ থেকে ড. ভোলা সিং ও সঙ্গীতা যাদব, ঝাড়খণ্ড থেকে ড. প্রদীপ বর্মা এবং গুজরাট থেকে জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল রয়েছেন এই তালিকায়। দিল্লি থেকে ড. সন্দীপ পাঠক, ড. স্বদেশ সিং ও জয় প্রকাশকে জাতীয় সচিব করা হয়েছে। নাগাল্যান্ড থেকে ফাংগনন কোনিয়াক, তামিলনাড়ু থেকে ড. এম. ভেঙ্কটেশন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মনোজ তিগ্গা, বিহার থেকে সিদ্ধার্থ শম্ভু, অসম থেকে মৃগাঙ্ক দেব বর্মন এবং গুজরাট থেকে রোহন গুপ্তও জাতীয় সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই সাংগঠনিক রদবদল ঘোষণা হবে-দলীয় স্তরে এমন ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং তার পরের দিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি থাকায় ঘোষণার জন্য সোমবারকেই বেছে নেয় বিজেপি। শোনা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সংগঠনে এক ঝাঁক নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ নজর তরুণ নেতৃত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের দিকে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভারসাম্য রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাটাই এই রদবদলের লক্ষ্য। উল্লেখযোগ্যভাবে আইটি সেলের মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কে। প্রায় ১০ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেল সামলেছেন মালব্য।
নতুন তালিকায় উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, কেরল সহ একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও অসম এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বিহারকেও প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সচিব—এই তিন স্তরে মোট ৩৭ জনকে নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃত্বকে জাতীয় কাঠামোয় আরও বেশি করে যুক্ত করতেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।



