Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কাছাড় কলেজে সচেতনতা, ‘সেন্সাস ২০২৭: হোয়াট? হোয়াই? হাউ?’

ওয়েটুবরাক, ১১ আগস্ট– আজ কাছাড় কলেজের অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগ যৌথভাবে সেন্সাস নিয়ে এক সচেতনতা সভার আয়োজন করে। ‘সেন্সাস ২০২৭: হোয়াট? হোয়াই? হাউ?’ শিরোনামে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আদমশুমারি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মণীশ পান্ডের স্বাগত ভাষণের পর অধ্যক্ষ অপ্রতিম নাগ চলতি জনগণনার উপর তাঁর পর্যবেক্ষণ পেশ করেন।
অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান জয়দীপ বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে ভারতে আদমশুমারির ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উপস্থিত শ্রোতাদের তিনি জানান যে, স্ব-গণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়াটি আসামে এমাসের ২ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হবে এমাসেরই ১৬ তারিখে। বাকি থাকা পাঁচ দিনের মধ্যে স্ব-গণনার কাজটি সেরে নেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে তিনি অনুরোধ করেন। তবে জয়দীপ এটাও জানান যে, স্ব-গণনা মোটেই বাধ্যতামূলক নয়। আর ওই কাজের জন্য সাইবার কাফেতে গিয়ে টাকা খরচ করার কোনও প্রয়োজন নেই। স্ব-গণনা করা হোক, বা না হোক, তথ্য সংগ্রহকারীরা দুই ক্ষেত্রেই প্রত্যেকের বাড়িতে যাবেন।

অর্থনীতির শিক্ষক এবং জেলা সেন্সাস শাখার ফিল্ড ট্রেনার পুষ্পলতা সিংহ পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড ব্যবহার করে স্ব-গণনাতে থাকা চৌত্রিশটি প্রশ্নের প্রতিটিতে কীভাবে সেন্সাসের সেল্ফ এনুমারেশন পোর্টালে উত্তর দিতে হবে তা বুঝিয়ে দেন। পুষ্পলতা হল-ভর্তি শ্রোতাদের এও জানান যে, সেন্সাসকে জড়িয়ে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা চাউর হয়েছে। যেমন সেন্সাসের প্রশ্নমালার মাধ্যমে সরকার জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত আয়কর এবং সম্পদকর বেড়ে যাবে। অনেকে আবার ভয় করছেন যে, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্যরাজি সুরক্ষিত থাকবে না। কেউ কেউ এমন আশঙ্কাও করছেন যে, জনশুমারি আসলে একরকমের এনআরসি প্রক্রিয়া। ফলে ফের নথি জড়ো করতে হবে। জনগণের জন্য এ যেন নতুন এক হেনস্থা-পর্ব। পুষ্পলতা স্পষ্ট করে জানান, এর সবটাই অহেতুক ও অমূলক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও সেন্সাসের ফিল্ড ট্রেনার রাহুল কান্তি নাথ সেল্ফ-এনুমারেশন প্রক্রিয়াটি হাতে কলমে দেখিয়ে দেন। কলেজের শিক্ষাকর্মী বংশীধর দুসাদের অনুরোধে অনলাইনে তাঁর সেল্ফ এনুমারেশন ফর্মে যাবতীয় তথ্য পূরণ করে রাহুল জমা দেন। পোর্টালে বেরিয়ে আসে এগারোটা সংখ্যার আইডি। বংশীধরবাবুকে বলা হয় এই আইডি সামলে রাখতে। কারণ এটা যে তথ্য সংগ্রাহককে দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শাবানা অঞ্জুম। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ওই বিভাগেরই শিক্ষক দুহুইদি টেরাং।

