Barak UpdatesHappeningsBreaking News
অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে শিলচরে পরাক্রম দিবস উদযাপিত

ওয়েটুবরাক, ২৪ জানুয়ারি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১৩০তম জন্মদিন উপলক্ষে পরাক্রম দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ড বৃহস্পতিবার শিলচরের সাঁই বিকাশ স্কুল প্রাঙ্গণে অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে সাঁই বিকাশ স্কুলের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করে। পরাক্রম দিবসের দ্বিতীয় কর্মসূচি হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে। পরাক্রম দিবস উদযাপন সমিতির কাছাড় জেলা সমিতির পক্ষ থেকে নেতাজির জন্মদিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। মুখ্য অতিথি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন রায় সহ অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ, সমিতির সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল এবং সম্পাদক সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও নেতাজির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে সভার সূচনা করেন।
মুখ্য অতিথির ভাষণে উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য নেতাজিকে জানা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ অপরিহার্য। তিনি আপসহীন সংগ্রামী ও গভীর ধার্মিক ব্যক্তি, যাঁর জীবনটাই দেশপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও কর্মযোগের এক সমন্বয়।

রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ বলেন, সুভাষ বসুকে পদের মোহ বা সম্পদে বেঁধে রাখা যায়নি। তাঁর অদম্য সাহস, আত্মসম্মান, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি, নেতৃত্ব এবং নীতিগত প্রাবল্য সারা বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল।
সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল বলেন, নেতাজি অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি-জাপানের সাহায্যে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করে আন্দামান-নিকোবরকে স্বরাজ্য দ্বীপ ঘোষণা করেন, যা সাত দেশ স্বীকৃতি দেয়। তাঁর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। নেতাজির সরস্বতী পূজার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল; ১৯২৫ সালে বহরমপুরে ব্রিটিশ নিষেধ অমান্য করে পূজা করেন এবং অনশনও করেন। ছাত্রজীবনে সিটি কলেজে ধর্ম-জাতীয়তাবাদের মেলবন্ধন ঘটান।শিলচর সাঁই বিকাশ স্কুলের অধ্যক্ষ অরিবুক্কারাসু পান্ডিয়ানও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
রূপম সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে নীলাঞ্জন পাল, সুস্মিতা হোম চৌধুরী, সীমা পুরকায়স্থ, ইন্দিরা সাহা, শিল্পী পাল চৌধুরী, অলকা দেব, সংগীতা দত্ত, ভারতী কর, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী সহ শিল্পীরা দুইটি সঙ্গীত পরিবেশন করেন ও উৎপল বিশ্বাস তবলায় সঙ্গ দেন। একক নৃত্যে নবস্মিতা পাল এবং নূপুর নৃত্যনাট্য একাডেমির শিল্পীরা যৌথভাবে পরিবেশন করেন।অঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সার্টিফিকেট, স্মারক ও ট্রফি তুলে দেন উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায়, রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ, সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল, সম্পাদক সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ, অধ্যক্ষ অরিবুক্কারাসু পান্ডিয়ান এবং ক্রীড়া সাংবাদিক অনির্বাণ জ্যোতি গুপ্ত। সম্পূর্ণ সভাটি সঞ্চালনা করেন পৌলমী শীল ও প্রততি শীল। সহযোগিতায় ছিলেন চিত্রশিল্পী উত্তম ঘোষ, অজয় দে, রাজিত কুমার দে, সুজয় দেব প্রমুখ।



